কৌশলগত ও খনিজ সম্পদের গুরুত্বের কারণে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে এবং ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ মালিকানা দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ইজারা নয় বরং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দ্বীপটির স্থায়ী মালিকানা আমেরিকার প্রয়োজন। প্রয়োজনে ‘সহজ’ কিংবা ‘কঠিন’—যেকোনো পথ অবলম্বনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমাদের গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে হবে। কোনো দেশের নিরাপত্তা কেবল ইজারা চুক্তির ওপর নির্ভর করতে পারে না; এর জন্য মালিকানা প্রয়োজন।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা এটি সহজ বা কঠিন—যেকোনো ভাবেই সম্পন্ন করব।" মূলত ৯ বছর বা ১০০ বছরের চুক্তিতে মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষিত নয় বলেই মনে করেন তিনি।
হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ডেনমার্কের এই অঞ্চলটি কেনার বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এমনকি প্রয়োজনে জোরপূর্বক গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবহুল অঞ্চল হলেও এর ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় এখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পূর্ব সতর্কবার্তা পাওয়া এবং সামুদ্রিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ করা সহজ।
ট্রাম্পের দাবি, দ্বীপটির চারপাশ বর্তমানে রুশ ও চীনা জাহাজ দ্বারা বেষ্টিত। যদিও এই দাবির সপক্ষে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমি চীন ও রাশিয়ার জনগণকে পছন্দ করলেও তাদের প্রতিবেশী হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে দেখতে চাই না।"
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। ডেনমার্ক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, "গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।" কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোট বা ন্যাটোর অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান দেশসমূহ এবং কানাডাও ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল ডেনমার্ক ও সেখানকার জনগণের। আর্কটিকের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করতে আগ্রহী হলেও তা অবশ্যই জাতিসংঘ সনদের নীতি ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে ‘সম্মিলিতভাবে’ করতে হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ‘পিটুফিক’ ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সৈন্য মোতায়েন করতে পারলেও ট্রাম্পের নজর এখন সেখানকার ভূ-গর্ভস্থ সম্পদের দিকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলে যাওয়ায় সেখানে থাকা ইউরেনিয়াম, লোহা ও বিরল খনিজ আহরণ সহজ হয়ে উঠছে। এছাড়া বিজ্ঞানীরা সেখানে বিশাল তেল ও গ্যাস মজুতের সম্ভাবনা দেখছেন।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, "আমরা আমেরিকান বা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা গ্রিনল্যান্ডবাসী হিসেবেই থাকতে চাই। আমাদের দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ বন্ধ হওয়া উচিত।"
উল্লেখ্য, আগামী সপ্তাহে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য ডেনমার্ক সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২০১৯ সালেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
