রামপুরহাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আর কেন্দ্রীয় এজেন্সির বাধা উপেক্ষা করেই বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ঝাড়খণ্ড সরকারের সহায়তায় হেলিকপ্টার ভাড়া করে রামপুরহাটে পৌঁছান তিনি। সেখানে আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যতবারই এসআইআর বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলার মানুষকে আটকাানোর চেষ্টা হবে, তৃণমূলের জনভিত্তি ততটাই মজবুত হবে। এদিন রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি মানবিক রূপেও ধরা দেন অভিষেক; হাসপাতালে গিয়ে সদ্যজাত এক শিশুর নামকরণ করেন তিনি।
এদিন রামপুরহাটের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে কপ্টার আটকে রাখার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “আমায় আটকাতে আজ কপ্টার নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু আমি দমবার পাত্র নই। ঝাড়খণ্ড সরকারের সহযোগিতায় এখানে পৌঁছেছি। যারা আমায় আটকাতে চায়, তাদের ষড়যন্ত্র আমি চুরমার করব।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যে যেখানে ইচ্ছা যেতে পারেন, কিন্তু মানুষের সমর্থন থাকবে তৃণমূলের সঙ্গেই।”
বীরভূমের মেয়ে সুনালী খাতুনকে ‘বাংলাদেশি’ দাগিয়ে সীমান্ত পার করে দেওয়ার ঘটনায় সরব হন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সুনালীর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। এদিন তিনি বলেন, “সুনালীকে লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে, রাতের পর রাত তাকে জঙ্গলে কাটাতে হয়েছে। স্রেফ বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে তাকে বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হয়েছে। অথচ তার বাবা-মায়ের নাম ভারতের ভোটার তালিকায় রয়েছে। এর যোগ্য জবাব বিজেপিকে দিতে হবে।” সুনালীর স্বামী দানিশের মামলার বিষয়ে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র সময় চেয়ে টালবাহানা করছে। আগামী ১৯ তারিখ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হতে পারে।
রাজনৈতিক সভার পর রামপুরহাট হাসপাতালে সুনালী খাতুন ও তার সদ্যজাত সন্তানকে দেখতে যান অভিষেক। সম্পূর্ণ প্রোটোকল মেনে ওটি গাউন পরে ভেতরে গিয়ে নবজাতকের কুশল সংবাদ নেন তিনি। সুনালী ও তার মায়ের অনুরোধে অভিষেক শিশুটির নাম রাখেন ‘আপন’। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “যাকে গায়ের জোরে ‘পর’ করে সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়েছিল, তাকেই আমরা ‘আপন’ করে নিলাম। কয়েক মাস পর আমি আবারও ওর বাড়ি যাব।”
বিজেপির ‘এসআইআর’ বা এনআরসি-র মতো পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, “যাঁরা এসআইআর-এর নোটিশ পাচ্ছেন, আতঙ্কিত হবেন না। তৃণমূলের ক্যাম্প ও কর্মীরা আপনাদের পাশে আছে। এই এসআইআর-এর জেরে ইতিমধ্যে ৬০-৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফর্ম-৬ পূরণ করে নাম তোলার সব ব্যবস্থা আমরা করব। যারা বাংলার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি অভিনেতা দেব এবং ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকে নোটিশ পাঠানোর ঘটনারও নিন্দা জানান।
আসন্ন নির্বাচনে বীরভূমের ৩,৬০০টি বুথ থেকে বিজেপিকে ‘ভোকাট্টা’ করার ডাক দিয়ে অভিষেক বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মানুষের দুয়ারে যান, কিন্তু বিজেপি দেয় শুধু ভাঁওতা ও বিভাজন। ১১ লক্ষ মহিলাকে এখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হয়েছে, এতে মোদী সরকারের এক পয়সাও অবদান নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্রের আটকে রাখা ২ লক্ষ কোটি টাকা পেলে বাংলার প্রতিটি বুথে আড়াই কোটি টাকার বাড়তি উন্নয়ন সম্ভব হতো।
সবশেষে সিপিএম ও বিজেপি নেতাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঙ্কার দেন, “বাঁচতে চাইলে বিজেপি বাই, আমার মমতার সরকার চাই।
বিষয় : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
