ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত নেতা নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে কড়া নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সকালে ম্যানহাটনের আদালতে উপস্থিত করার সময় সিলিয়া ফ্লোরেসের কপালে ও মাথায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন এবং ব্যান্ডেজ দেখা যায়। গত শনিবার দিবাগত রাতে কারাকাসে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর পরিচালিত এক বিতর্কিত সামরিক অভিযানের সময় তিনি এসব চোট পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে সিলিয়া ফ্লোরেস কেবল মাদুরোর স্ত্রী নন, বরং অত্যন্ত প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব। ২০১৩ সালে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রচলিত 'ফার্স্ট লেডি' পদবিটি বর্জন করেন। তিনি মনে করতেন এই পদবিটি অতিরিক্ত আভিজাত্যপূর্ণ ও রাজকীয়। এর পরিবর্তে তিনি স্ত্রীকে 'ফার্স্ট কমব্যাট্যান্ট' বা 'প্রথম যোদ্ধা' হিসেবে অভিহিত করেন। সেই থেকে ভেনেজুয়েলায় তিনি এই নামেই সমধিক পরিচিত।
আদালতে সিলিয়া ফ্লোরেসের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁর কপাল ও রগ বরাবর গভীর ক্ষত রয়েছে। এছাড়া পাঁজরে গুরুতর চোটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আইনজীবীদের দাবি, কারাকাসের সেফ হোম থেকে তাঁদের তুলে আনার সময় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর (ডেল্টা ফোর্স) সদস্যরা বলপ্রয়োগ করায় এই জখম সৃষ্টি হয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এতদিন ভেনেজুয়েলার বাইরে সিলিয়া ফ্লোরেসের পরিচিতি সীমিত থাকলেও, বর্তমানে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা মাদকসন্ত্রাস ও অর্থ পাচারের মামলায় সিলিয়াকেও অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
শনিবার রাতের সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর তাঁদের সরাসরি নিউ ইয়র্ক নগরে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে এই দম্পতি মার্কিন বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।