× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

লুমুম্বা থেকে মাদুরো: মার্কিন রোষানলে রাষ্ট্রনেতাদের সেই হাড়হিম করা পরিণতি

০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩০ এএম । আপডেটঃ ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩১ এএম

নিকোলাস মাদুরো |

ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। খনিজ তেলসমৃদ্ধ দেশটির রাজধানী কারাকাসে মার্কিন ‘ডেল্টা ফোর্স’-এর এই ঝটিকা অভিযান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে মাদুরোর পরিণতি কী হবে—তা নিয়ে জল্পনার মাঝেই ফিরে আসছে ইতিহাসের সেইসব নৃশংস অধ্যায়, যেখানে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র (সিআইএ) মদতে রাষ্ট্রনায়কদের প্রাণ হারাতে হয়েছে। বিশেষ করে কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার হত্যাকাণ্ডের সেই হাড়হিম করা লোমহর্ষক বর্ণনা আজও বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়।

অ্যাসিডে গলিয়ে দেওয়া হয় লুমুম্বার দেহ

ষাটের দশকের স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বেলজিয়ামের কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (ডিআরসি)। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন প্যাট্রিস এমেরি লুমুম্বা। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থান এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি তাঁর সম্ভাব্য ঝোঁক মেনে নিতে পারেনি ওয়াশিংটন।

তদন্তে জানা যায়, সিআইএ-র প্রত্যক্ষ উস্কানিতে কঙ্গোয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয় এবং ১৯৬১ সালের ১৭ জানুয়ারি লুমুম্বাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করিয়ে বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; প্রমাণ লোপাট করতে তাঁর মৃতদেহ অগভীর কবরে রেখে অ্যাসিড ঢেলে গলিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর শরীরের অবশিষ্ট বলতে ছিল কেবল একটি দাঁত, যা ২০২২ সালে বেলজিয়াম সরকার তাঁর পরিবারের কাছে ফেরত দেয়।

মাদুরোকে আটকের ঘটনাটি অনেক বিশ্লেষককে ১৯৮০-র দশকে পানামায় মার্কিন অভিযান ‘অপারেশন জাস্ট কজ’-এর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তৎকালীন সেনাশাসক ম্যানুয়েল নেরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে একই কায়দায় বন্দি করেছিল ওয়াশিংটন।

নেরিয়েগা ও রক মিউজিক: পানামার ভ্যাটিকান দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়া নেরিয়েগাকে বের করে আনতে মার্কিন বাহিনী দিনরাত উচ্চৈঃস্বরে রক গান বাজিয়ে এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালে তিনি আত্মসমর্পণ করেন এবং ২০১৭ সালে মার্কিন জেলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি: ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের খোঁজে ইরাক আক্রমণ করে মার্কিন বাহিনী। তিন বছর পর ২০০৬ সালে বাঙ্কার থেকে উদ্ধার হওয়া ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধেও মাদক পাচার ও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাসের পাতায় লুমুম্বা বা সাদ্দাম হোসেনের মতো চরম পরিণতি কি মাদুরোর ভাগ্যেও অপেক্ষা করছে, নাকি নেরিয়েগার মতো তাঁকে দীর্ঘ মেয়াদে মার্কিন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটাতে হবে—তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিআইএ-র এই ‘হায়েনা নীতি’ লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতারজন্ম দিতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.