ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশ যে কোনো সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক আইন এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, "ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান যে কোনো বিরোধ মেটানোর একমাত্র পথ হওয়া উচিত কূটনীতি ও গঠনমূলক সংলাপ।" একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার স্থানীয় সময় ভোররাতে ভেনেজুয়েলায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। এরপর তাঁদের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদুরো আন্তর্জাতিক মাদকচক্রকে মদত দিচ্ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আপাতত ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং বর্তমান প্রশাসন সহযোগিতা না করলে পুনরায় সামরিক হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এমনকি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, কমলা হ্যারিস এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই সামরিক পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘লক্ষ্যভিত্তিক আইন প্রয়োগকারী অভিযান’ বলে এই হামলা চালানো হলেও এর মাধ্যমে অন্য একটি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং লাতিন আমেরিকার স্থিতিশীলতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।