উড্ডয়নের আগমুহূর্তে মদ্যপ অবস্থায় এক পাইলট শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া চিঠি দিয়েছে কানাডার পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ট্রান্সপোর্ট কানাডা’। গত ২৩ ডিসেম্বর ভ্যাঙ্কুভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘গুরুতর’ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সটিকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ভ্যাঙ্কুভার থেকে দিল্লিগামী এআই-১৮৬ ফ্লাইটের ওই পাইলট উড্ডয়নের আগে বিমানবন্দরের একটি ডিউটি-ফ্রি শপে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে এক কর্মী ওই পাইলটের মুখে মদের তীব্র গন্ধ পেয়ে তাৎক্ষণিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে কানাডিয়ান পুলিশের পরিচালিত দুটি পৃথক ব্রেথলাইজার টেস্টে ওই পাইলট ডিউটির জন্য ‘অনুপযুক্ত’ বলে প্রমাণিত হন। এরপরই তাকে দ্রুত বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাইলট শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৩ ডিসেম্বরের ওই ফ্লাইটটি সাময়িকভাবে বিলম্বিত হয় এবং পরবর্তীতে বিকল্প পাইলটের মাধ্যমে যাত্রা সম্পন্ন করা হয়। অভিযুক্ত পাইলটকে বর্তমানে সব ধরনের উড্ডয়ন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, "নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এয়ার ইন্ডিয়া 'জিরো-টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করে। তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন এয়ার ইন্ডিয়া তাদের নিরাপত্তা মান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে। গত বছরের ১২ জুন আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ড্রিমলাইনার বিধ্বস্ত হয়ে ২৬০ জন নিহতের ঘটনার পর থেকে সংস্থাটি কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। এছাড়া, সম্প্রতি যান্ত্রিক ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও উড্ডয়নে সম্মতি দেওয়ায় ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ) চারজন পাইলটকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
কানাডার বিমান চলাচল আইন অনুযায়ী, উড্ডয়নের অন্তত ১২ ঘণ্টা আগে কোনো পাইলট বা ক্রু সদস্য মদ্যপান করতে পারেন না। ট্রান্সপোর্ট কানাডা আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। নিয়ম অমান্যের প্রমাণ মিললে এয়ারলাইনস ও পাইলট উভয়ের বিরুদ্ধেই বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।