ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার কড়া সমালোচনায় কমলা হ্যারিস ও জোহরান মামদানি। গ্রাফিক: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। খোদ খাস আমেরিকাতেই এখন এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে সরব হয়েছেন ডেমোক্র্যাট শিবিরের শীর্ষ নেতারা। ওয়াশিংটন ও শিকাগোসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট নেত্রী কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের এই অভিযানের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। একে ‘বেআইনি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এই ধরনের হঠকারী পদক্ষেপ আমেরিকাকে নিরাপদ বা শক্তিশালী করবে না। মাদুরোর শাসন নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু তার দোহাই দিয়ে ট্রাম্পের এই হামলা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।"
অন্যদিকে, নিউইয়র্কের স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান (মেয়র পদপ্রার্থী) জোহরান মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘অঘোষিত যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা কেবল বিদেশে নয়, বরং নিউইয়র্কের স্থানীয় জনজীবনেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে নিউইয়র্কে বসবাসরত হাজার হাজার ভেনেজুয়েলান প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি প্রশাসনের বিশেষ নজরদারির কথা উল্লেখ করেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধী ও মাদক প্রবেশ রুখতেই মাদুরোকে সরানো প্রয়োজন ছিল। তবে এই ব্যাখ্যার আড়ালে ‘তেল রাজনীতি’ দেখছেন বিশ্লেষক ও বিক্ষোভকারীরা।
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার ভেনেজুয়েলায়। দেশটির প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেলের ওপর ট্রাম্পের নজর রয়েছে বলে দাবি করছেন শিকাগো ও ওয়াশিংটন ডিসির রাজপথে জড়ো হওয়া প্রতিবাদীরা। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে রাজপথ— “তেলের জন্য রক্ত চাই না”, “ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুদ্ধ বন্ধ করো”। শিকাগোর ফেডারেল প্লাজায় একজন বিক্ষোভকারীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “দক্ষিণ আমেরিকার ওপর থেকে হাত সরিয়ে নাও।”
ট্রাম্পের এই অভিযানের বড় একটি আইনি দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনহীনতাকে। কোনো প্রকার ভোটাভুটি বা সংসদের তোয়াক্কা না করেই এই সামরিক কমান্ডো অভিযান চালানো হয়েছে। এতে সাধারণ আমেরিকানদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ। নাগরিক সমাজের দাবি, সামরিক শক্তির এই অপপ্রয়োগ অব্যাহত থাকলে আগামীতে জনরোষ আরও বাড়বে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। মায়ামি বা ফ্লোরিডার মতো কিছু জায়গায় ট্রাম্প সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ভেনেজুয়েলার পতাকা জড়িয়ে এই অভিযানকে সমর্থনও জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
