× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

৩৬ বছর আগে যেভাবে এক প্রেসিডেন্টকে ধরে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:১১ এএম । আপডেটঃ ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০৩ এএম

আটকের পর জেনারেল ম্যানুয়েল নোরিয়েগা। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন অভিযানে 'আটক' করার ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার এই দুঃসাহসিক অভিযান ৩৬ বছর আগের এক স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে। ১৯৮৯ সালে লাতিন আমেরিকার দেশ পানামায় ঠিক একইভাবে সামরিক অভিযান চালিয়ে তৎকালীন শাসক জেনারেল ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে উৎখাত ও বন্দী করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। নোরিয়েগার বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচারের সেই পুরনো অভিযোগই এখন মাদুরোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করায় আলোচনায় উঠে এসেছে ঐতিহাসিক 'অপারেশন জাস্ট কজ'।

১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর। সমুদ্র, আকাশ ও স্থল—তিন পথেই পানামায় একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা। লক্ষ্য ছিল একটাই: এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র কিন্তু পরবর্তীতে শত্রু হয়ে ওঠা জেনারেল ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং তাকে মাদক মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রে ধরে নিয়ে যাওয়া।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এই অভিযানের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, পানামায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জীবন রক্ষা এবং মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত নোরিয়েগাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই এই সামরিক পদক্ষেপ। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই পানামার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।

মার্কিন বাহিনীর সেই আগ্রাসনে পানামা সিটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সরকারি হিসেবে ৫১৪ জন পানামীয় নাগরিক (সেনা ও বেসামরিক) নিহত হওয়ার কথা বলা হলেও স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ছিল এক হাজারের কাছাকাছি। অভিযানে প্রাণ হারান ২৩ জন মার্কিন সেনাও।

মার্কিন সেনাদের তাড়া খেয়ে নোরিয়েগা পানামাস্থ ভ্যাটিকান কূটনৈতিক মিশনে (দূতাবাস) আশ্রয় নেন। তাকে বের করে আনতে মার্কিন সেনারা এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক কৌশল বেছে নেয়। বড়দিনের পুরো সময়টা দূতাবাসের বাইরে উচ্চশব্দে দ্য ক্ল্যাশ, ভ্যান হ্যালেন ও ইউটু ব্যান্ডের রক সংগীত বাজানো হতে থাকে। টানা ১১ দিন এই অসহনীয় পরিস্থিতি ও চাপের মুখে থাকার পর ১৯৯০ সালের ৩ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন নোরিয়েগা।

আত্মসমর্পণের পরপরই মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) কর্মকর্তারা নোরিয়েগাকে বিমানে করে মায়ামিতে নিয়ে যান। সেখানে মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। জীবনের বাকি সময়টা তার বন্দিদশাতেই কাটে—প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর ফ্রান্সে এবং সবশেষে নিজ দেশ পানামায় গৃহবন্দি হিসেবে। ২০১৭ সালে ৮৩ বছর বয়সে মস্তিষ্কের টিউমার অপারেশনের জটিলতায় এই সাবেক একনায়কের মৃত্যু হয়।্

৩৬ বছর পর আজ নিকোলাস মাদুরোর পরিণতিও নোরিয়েগার মতো হবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.