ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর দেশটিতে আর বড় ধরনের কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন রিপাবলিকান সেনেটর মাইক লি’র বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। মূলত মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা পুরনো ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে ওয়াশিংটন সূত্রে জানা গেছে।
সেনেটর মাইক লি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন ছিল, যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতেই তাকে আটক করা হয়েছে। সেনেটর লি’র ভাষ্যমতে, "মাদুরো এখন মার্কিন হেফাজতে থাকায় ভেনেজুয়েলায় আর বড় কোনো সামরিক অ্যাকশনের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না রুবিও।"
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে হেলিকপ্টারে করে দেশের বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে।
তবে এই অভিযানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। সেনেটর মাইক লি প্রশ্ন তুলেছেন যে, যুদ্ধ ঘোষণা না করে বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন (এইউএমএফ) ছাড়া কীভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তার ব্যাখ্যা জানার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
এদিকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কারাকাস সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে। তারা 'বেঁচে আছেন'—এমন তাৎক্ষণিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দাবি করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদরিনো অভিযোগ করেছেন, মার্কিন বাহিনী দেশটির সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক এলাকাতেও আঘাত হেনেছে। তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।