ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে এক নাটকীয় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে বন্দি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশছাড়া করা হয়েছে। বাসচালক থেকে উগো চাভেজের উত্তরসূরি হয়ে ওঠা মাদুরোর ২৬ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটাতে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করল ওয়াশিংটন। বর্তমানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস কোথায় আছেন, সে বিষয়ে খোদ ভেনেজুয়েলা সরকারও অন্ধকারে রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মাদুরোর সংঘাত নতুন কিছু নয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, মাদুরো প্রশাসন রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও তেল খনি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান এবং জঙ্গি অর্থায়নে লিপ্ত। এছাড়া, ২০২৪ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অভিযোগও রয়েছে মাদুরোর বিরুদ্ধে। যেখানে বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছিল—যিনি সম্প্রতি ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
ক্যারিবিয়ান সাগরে আগে থেকেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও পরমাণু ডুবোজাহাজ মোতায়েন করে ভেনেজুয়েলাকে এক প্রকার অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে রাজধানী কারাকাস অন্তত সাতটি বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। এরপরই মিরান্ডা ও আরাগুয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলোতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অকাট্য প্রমাণ থাকায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা এই অভিযানকে 'সন্ত্রাসবাদী হামলা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কারাকাসের দাবি, মূলত ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ হাতিয়ে নিতেই এই নজিরবিহীন আগ্রাসন চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে রাশিয়া, ইরান ও কিউবার মতো মিত্র দেশগুলো মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সমাজতান্ত্রিক এই দেশটির ওপর আমেরিকার এই সরাসরি হস্তক্ষেপ দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।