যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার চরম উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। শনিবার ভোরে ঘটা এই সিরিজ বিস্ফোরণের পর রাজধানীর বিশাল এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দের পাশাপাশি আগুনের কুণ্ডলী দেখা যাওয়ায় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। সিএনএনের সাংবাদিক ওসমারি হার্নান্দেজ ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেন, "একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সেটির প্রভাবে আমার জানালার কাঁচ কাঁপছিল।" প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কারাকাসে অবস্থানরত সাংবাদিকরা ওই সময় আকাশে যুদ্ধবিমানের গগনবিদারী শব্দ শোনার কথা নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারের মাঝে আকাশে বিশাল দুটি ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। একটি কুণ্ডলীর নিচের অংশে আগুনের তীব্র কমলা আভা দেখা গেছে। অন্য একটি স্থানে আলোর ঝলকানির পরপরই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এফেক্টো কোকুইও এবং তাল কুয়াল ডিজিটাল জানিয়েছে, শুধু কারাকাস নয়, উত্তরের লা গুয়াইরা রাজ্য এবং মিরান্ডা রাজ্যের উপকূলীয় শহর হিগুয়েরোতেও প্রচণ্ড শব্দ শোনা গেছে।
বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে ভেনেজুয়েলা সরকার বা মার্কিন প্রশাসন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সিএনএন এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের বক্তব্য জানতে চাইলে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ‘মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্কের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন যে, স্থলভাগে ‘শিগগির’ হামলা শুরু হতে পারে এবং অবৈধ অভিবাসী ও মাদক ঠেকাতে সিআইএ-কে ভেনেজুয়েলার ভেতরে বিশেষ অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।