নাগরিকত্ব শনাক্ত করতে এবার অদ্ভুত এক ‘যন্ত্রের’ উদ্ভাবন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। কোনো ব্যক্তিকে স্পর্শ করলেই তিনি বিদেশি কি না, তা বলে দিচ্ছে পুলিশের হাতের একটি সাধারণ মোবাইল ফোন! সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে বস্তিবাসীদের ওপর পুলিশের এমন আজব তল্লাশির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভারতজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাজিয়াবাদের কৌশাম্বী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য একটি বস্তিতে গিয়ে বাসিন্দাদের ভয় দেখাচ্ছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা এক ব্যক্তির পিঠে নিজের মোবাইল ফোনটি ঠেকিয়ে দাবি করেন, এটি নাগরিকত্ব যাচাই করার যন্ত্র। তিনি বলেন, “মিথ্যা বলবেন না, আমাদের কাছে এমন যন্ত্র আছে যাতে সব ধরা পড়ে যায়।” এরপর মোবাইলের স্ক্রিন দেখিয়ে তিনি ওই ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে শনাক্ত করে দেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের এমন অদ্ভুত দাবির মুখে এক নারী ও এক কিশোরী নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে দাবি করেন যে তারা বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা। তবে পুলিশ সদস্যরা সেই পরিচয়পত্র আমলে না নিয়ে তাদের বাংলাদেশি বলে হেনস্তা করতে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম অজয় শর্মা। গত ২৩ ডিসেম্বর র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সকে (আরএএফ) সঙ্গে নিয়ে গাজিয়াবাদের বিহারি মার্কেট এলাকায় রুটিন তল্লাশির সময় এই ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিসিপি (ট্রান্স-হিন্দন) নিমিশ পাতিল জানান, ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। এটি আসলে একটি রুটিন তল্লাশির অংশ ছিল। তবে গায়ে মোবাইল ঠেকিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণের এই অপকৌশল নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ইন্দ্রপুরমের সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসিপি) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পুলিশের এই কাণ্ডকে ‘ডিজিটাল ভাঁড়ামো’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ার বদলে এমন অদ্ভুত পদ্ধতির প্রয়োগ নিয়ে পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।