বাংলাদেশে সুপ্রতিবেশীসুলভ মনোভাবের বার্তা পৌঁছে দিতেই সাম্প্রতিক ঢাকা সফর করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটাই ছিল ভারতের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির প্রথম বাংলাদেশ সফর।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) চেন্নাইয়ের আইআইটি মাদ্রাজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ও ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জয়শঙ্কর জানান, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা পৌঁছে দিতে এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করতে তিনি ঢাকা গিয়েছিলেন। সফরে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। জয়শঙ্কর বলেন, “বাংলাদেশ এখন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের শুভকামনা জানিয়েছি। আশা করি, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এই অঞ্চলে সুপ্রতিবেশীসুলভ চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে।”
প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে দুই ভাগে ভাগ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশ বিশ্বাস করে যে, ভারতের প্রবৃদ্ধি ও উন্নতির সঙ্গে তাদের নিজেদের উন্নয়নও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই দেশগুলোর অবকাঠামো, বিদ্যুৎ গ্রিড, বন্দর নির্মাণ ও পর্যটন খাতে ভারত বিনিয়োগ করে আসছে।
নাম উল্লেখ না করে পাকিস্তানের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “কিছু প্রতিবেশী আছে যারা ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়। নিজের দেশের স্বার্থ ও জনগণকে রক্ষা করতে ভারত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।” এক্ষেত্রে তিনি সিন্ধু পানি চুক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, সন্ত্রাসবাদ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ একসঙ্গে চলতে পারে না।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর দুর্দিনে ভারত সবসময়ই প্রথম সাড়াদানকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখে। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটে ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা, কোভিডকালে টিকা সরবরাহ এবং সাম্প্রতিক সাইক্লোন ‘দ্বিতয়া’র সময় দ্রুত ত্রাণ পাঠানোর কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকটকালীন খাদ্য, সার ও জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করেছে যে তার ওপর নির্ভর করা যায়।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলোচনার শেষে জয়শঙ্কর পুনরায় আশা প্রকাশ করেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তিনি বিশ্বাস করেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমেই দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।