আফগানিস্তানে কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। দীর্ঘদিনের খরা পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে এই বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা দেশটির মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলসহ বিশাল এলাকাজুড়ে মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএনডিএমএ) আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে হেরাত প্রদেশের কাবকান জেলায়। বৃহস্পতিবার সেখানে একটি মাটির বাড়ির ছাদ ধসে পড়লে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার প্রবল স্রোতে হেরাত-কান্দাহার মহাসড়কের দাশতে বাকওয়া এলাকায় একটি ট্রাক ও একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে যাচ্ছে। বাসটি উল্টে যাওয়ার পর ভেতর থেকে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে বেরিয়ে আসার দৃশ্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ জানান, বন্যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক গবাদিপশু মারা গেছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা গ্রামীণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আফগানিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মতোই চরম আবহাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধ, দুর্বল অবকাঠামো, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলের মাটির তৈরি বাড়িগুলো সামান্য বৃষ্টি বা ভূমিকম্পেই ধসে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এই বন্যা পরিস্থিতি দেশটির উদ্ধার তৎপরতা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, ২০২৬ সালেও আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংকটের মুখে থাকা দেশ হিসেবে রয়ে যেতে পারে।