× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

শপথ নিয়েই পরিবর্তনের লড়াইয়ে মেয়র মামদানি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৫ পিএম । আপডেটঃ ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৩ পিএম

নিউইয়র্ক সিটি হলের বাইরে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক জোহরান মামদানি। ছবি: এএফপি

ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র নিউইয়র্ক সিটি। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিটির ১১১তম এবং প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন তরুণ ডেমোক্র্যাট নেতা জোহরান মামদানি। কেবল শপথ গ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এই মিলেনিয়াল নেতা; দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—নিউইয়র্ক হবে আগামীর বিশ্বের জন্য এক অনন্য উদাহরণ।

গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় ম্যানহাটনের সিটি হলের নিচে অবস্থিত পরিত্যক্ত এক সাবওয়ে স্টেশনে অনাড়ম্বর পরিবেশে শপথ নেন ৩৪ বছর বয়সী মামদানি। নিউইয়র্কের ইতিহাসে তিনিই প্রথম মেয়র, যিনি পবিত্র কুরআন হাতে শপথ নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি তার দাদার রেখে যাওয়া পারিবারিক কুরআন এবং নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত ২০০ বছরের পুরনো একটি পকেট কুরআন ব্যবহার করেন। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।

শপথের পর সিটি হলের বাইরে আয়োজিত বিশাল এক জনসভায় ২৪ মিনিটের এক উদ্দীপনামূলক বক্তব্য রাখেন মামদানি। তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, “অনেকে জানতে চান বামপন্থিরা প্রশাসন চালাতে পারে কি না। আমরা এমন কিছু করে দেখাব যা আগে কেউ দেখেনি। আজ থেকে আমরা সাহসিকতার সঙ্গে শাসন করব এবং নিউইয়র্ককে সারা বিশ্বের জন্য এক রোল মডেলে পরিণত করব।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ‘ধনীদের ওপর কর আরোপ করো’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, ধনীদের ওপর কর বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো মামদানির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।

টিকিট কেটে প্রায় চার হাজার দর্শক মামদানির দ্বিতীয় এই অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাজনীতির প্রভাবশালী বামপন্থি নেতা বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা এমন একটি সরকার চেয়েছিলাম যা শুধু ধনীদের নয়, বরং সবার জন্য কাজ করবে। জোহরানকে বেছে নিয়ে নিউইয়র্কবাসী সেই পথই প্রশস্ত করেছেন।”

জোহরান মামদানির এই উত্থানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘অলৌকিক’ হিসেবে দেখছেন। এক বছর আগেও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায় অপরিচিত এই তরুণ একাধারে নিউইয়র্কের প্রথম দক্ষিণ এশীয়, প্রথম মিলেনিয়াল এবং প্রথম মুসলিম মেয়র। এক সময়ের গায়ক ও বহুভাষিক এই নেতাকে নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। ৩১ বছর বয়সী বিজ্ঞানী জ্যাকব বায়ারলি এএফপিকে বলেন, “আমাদের জীবনে প্রথমবারের মতো কোনো রাজনৈতিক আশাবাদ অনুভব করছি।”

অভিষেক অনুষ্ঠানে গুটিকয়েক বিক্ষোভকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সমর্থকদের বিপুল উচ্ছ্বাসের জোয়ারে তা ম্লান হয়ে যায়। সব মিলিয়ে এক রূপকথার সূচনার মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে শুরু হলো ‘মামদানি যুগ’।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.