বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও দীপুচন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন তিনি গাজ়ায় ইজরায়েলি অভিযানের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশকে ‘সবক’ শেখানোর নিদান দিয়েছেন। শুভেন্দুর এই কট্টর অবস্থান ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান কূটনৈতিক লাইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র বিভ্রান্তি ও বিতর্ক।
বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ইজরায়েল যেভাবে গাজ়াকে শিক্ষা দিয়েছে, সেভাবেই আমাদের ভারতের ১০০ কোটি হিন্দু... দেশের সরকার হিন্দুহিতে চলছে। অপারেশন সিঁদুরে যেভাবে আমরা পাকিস্তানকে সবক শিখিয়েছি, সেভাবেই সবক শেখানো উচিত।” এনডিটিভি-তে এই বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
শুভেন্দুর এই মন্তব্য নয়া দিল্লির বর্তমান অবস্থানের ঠিক উল্টো। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদী সরকার বা বিদেশমন্ত্রক এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও সংযত মন্তব্য করেছে।
ভারত সরকার গাজ়ায় ইজরায়েলি আগ্রাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এভাবে সমর্থন করেনি, যা শুভেন্দু প্রকাশ্যে করেছেন। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দীপু হত্যার বিচার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বললেও কোনো সামরিক বা উস্কানিমূলক ইঙ্গিত দেননি।
শুভেন্দুর মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, এটি কি আদতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গোপন এজেন্ডা? রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা সরাসরি প্রশ্ন করেন, “বিরোধী দলনেতার কথা কি প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশমন্ত্রী সমর্থন করেন? করলে তারা প্রকাশ্যে বলুন।”
পাল্টা যুক্তিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিষয়টিকে আইনি ও আবেগের মোড়কে ঢাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতা কোনো দলীয় পদ নয়, এটি সাংবিধানিক পদ। তিনি সাধারণ মানুষের আবেগ স্পর্শ করেছেন মাত্র।” তবে দলেরই একাংশ মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘আগ্রাসী হিন্দু তাস’ খেলতেই গাজ়া-পাকিস্তান-বাংলাদেশকে এক সারিতে এনেছেন শুভেন্দু।