মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ক্ষমতায় ফিরলে 'তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো' থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে অভিবাসন স্থগিত করবেন। একই সঙ্গে, পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলে দেওয়া 'লাখ লাখ' অভিবাসন অনুমোদন বাতিল করারও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর এই কঠোর অভিবাসন নীতির কথা জানান। তবে 'তৃতীয় বিশ্বের দেশ' বলতে তিনি নির্দিষ্টভাবে কোন কোন দেশকে বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও হুমকি
ওয়াশিংটনে একজন আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে দুজন ন্যাশনাল গার্ড সেনাকে গুলি করার অভিযোগ ওঠার মাত্র একদিন পরই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই বড় ঘোষণা এলো।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল করার সুযোগ করে দিতে আমি তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব।"
তিনি আরও হুমকি দিয়ে বলেন, তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলে দেওয়া 'লাখ লাখ' অভিবাসনের অনুমোদন বাতিল করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, "যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রকৃত সম্পদ নন, এমন যে কাউকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।"
১৯টি দেশের গ্রিনকার্ড পর্যালোচনা: এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছিল। সেই ঘোষণা অনুসারে, ১৯টি নির্দিষ্ট দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা নাগরিকদের গ্রিনকার্ড কঠোরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা হবে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগের (ইউএসসিআইএস) প্রধান জোসেফ এডলো এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, "প্রেসিডেন্ট আমাকে ঝুঁকিপূর্ণ বা উদ্বেগের তালিকায় থাকা ১৯টি দেশ থেকে আসা প্রত্যেক নাগরিকের গ্রিনকার্ড কঠোরভাবে পর্যালোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।" প্রেসিডেন্টের এই নতুন ঘোষণা সেই কঠোর পদক্ষেপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
এই ধরনের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়িত হলে তা বিশ্বের বহু দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্নকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।