ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে আটক করেছে দেশটির ফেডারেল পুলিশ। শনিবার সাবেক এই ডানপন্থী নেতাকে আটক করা হয় বলে তাঁর আইনজীবী সেলসো ভিলারদি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। বলসোনারোর আইনজীবীর পক্ষ থেকে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো না হলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এটি তাঁর গৃহবন্দী থাকার শর্তাবলি লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
ফেডারেল পুলিশের একজন প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন, আটকের পর শনিবার সকালেই রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় বলসোনারোর প্রাথমিক চিকিৎসাসংক্রান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
২০২২ সালের নির্বাচনে বামপন্থী লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ব্রাজিলের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি একটি অভ্যুত্থান পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভ্যুত্থানের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার দায়ে গত সেপ্টেম্বরে বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এই মামলায় এখনো চূড়ান্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি, কারণ তিনি আপিলের প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ করেননি।
পৃথক একটি মামলায় নিজের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করতে প্ররোচিত করার চেষ্টার অভিযোগে তিনি ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে গৃহবন্দী ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই গৃহবন্দীত্বের শর্ত লঙ্ঘনের ফলেই তাঁকে আটক করা হয়েছে।
বলসোনারো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
ডানপন্থী সাবেক এই প্রেসিডেন্টের আটকের ঘটনা ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলসোনারোর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনায় বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বলসোনারোর আটক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন পর্যবেক্ষণ চলছে।