পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২২ জনে এবং আহতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। অসংখ্য বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে কুনার ও নানগারহার প্রদেশকে কেন্দ্র করে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে, যা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুফতি আবদুল মতিন কানি জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুনার প্রদেশ, যেখানে অন্তত ৬১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী নানগারহার প্রদেশে ১২ জনের মৃত্যু এবং ২৫৫ জনের অধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে ভূমিকম্প আঘাত হানায় বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাটির সঙ্গে মিশে যায় বহু গ্রাম। পোলাদ নূরি নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, "আমার ২৮ বছরের জীবনে এতো শক্তিশালী ভূমিকম্প আর কখনো দেখিনি।" কম্পনের পর অন্তত ১৩টি পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে গুরুতর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
-68b54fea56b19.jpg)
ম্যানহোলের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি বড় ধরনের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত।
ভূমিকম্প দুর্গত এলাকাগুলো পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক এলাকার সঙ্গে ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তালেবান সরকারের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এবং চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো।
উল্লেখ্য, আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ। এর আগেও ভয়াবহ সব ভূমিকম্পে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।