মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আজ শুক্রবার আলাস্কায় হতে যাওয়া বৈঠকটির দিকে যে শুধু ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোই তাকিয়ে আছে, তা নয়। বৈঠকের জায়গা থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে ভারতের নয়াদিল্লিতেও এ নিয়ে বেশ কৌতূহল আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার মূল কারণ হলো চীনের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লিকে নিজেদের ছায়াশক্তি হিসেবে ব্যবহার করা। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের অর্থনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত শক্তি বেড়ে যাওয়ায় এমনটা পদক্ষেপ নেয় তারা।
সোভিয়েত ইউনিয়নে কমিউনিজম শেষ হওয়ার পর কৌশলগত বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীনকে সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার দিকে মনোযোগ বৃদ্ধি করে। এর জন্য তারা গণতান্ত্রিক দেশ ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে কোয়াড জোট গঠন করে।
ওবামা এক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে বলেছিলেন, ‘সেরা সহযোগী।’
তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ট্রাম্প ভারতের কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন। যেসব দেশের পণ্যে ট্রাম্প সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছেন, তার একটি ভারত। ৫০ শতাংশ শুল্কের মধ্যে অর্ধেকই আরোপ করা হয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘জরিমানা’ হিসেবে।
অথচ বিশ্বে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে একসময় বাইডেন প্রশাসনই ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে উৎসাহিত করেছে।
এদিকে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের চেয়ে বেশি তেল কেনে। অথচ দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক থেকে সাময়িকভাবে রেহাই পেয়েছে। নয়াদিল্লির সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প চীনের প্রতি এক রকম আর ভারতের প্রতি অন্য রকম আচরণ দেখানোর কারণে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া অঞ্চলে কৌশল বদলাচ্ছে কি না।
২০০০-এর দশকের শুরু থেকে নয়াদিল্লিতে যত সরকার এসেছে, তাদের সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে কৌশলগত সহযোগী হয়ে উঠছিল ভারত। ট্রাম্প এ সম্পর্ককে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। মোদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি দুটি সমাবেশে মোদির সঙ্গে এক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কয়েকবারই একে অপরকে আন্তরিকভাবে জড়িয়ে ধরতে দেখা গেছে। তাঁরা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবু ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক থেকে নয়াদিল্লি রক্ষা পায়নি। ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তা ব্রাজিলের শুল্কের সমতুল্য।
কার্নেগি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের দক্ষিণ এশিয়া–বিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক মিলান বৈষ্ণব বলেন, শুল্কজনিত পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কয়েক দশকের সম্পর্কের মধ্যে সবচেয়ে বড় চিড় ধরিয়েছে।
ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর কয়েক মাস ধরে নয়াদিল্লি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিল। তারা বাক্যুদ্ধে জড়াতে চাইছিল না।
তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ভারত অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিমুখী আচরণ করছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এখনো রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে এবং আগে তারাই চেয়েছিল, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনুক।
আল-জাজিরাকে বৈষ্ণব বলেন, একটা বিষয় পরিষ্কার: সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা অনেক কমে গেছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রাভীন দোন্থির মতে, মোদি ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়েছে।
এর আগেও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কারণে ভারত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে পড়েছিল। ভারত মস্কো থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার পর এ হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২২ সালে প্রস্তাবিত সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে ভারতকে ছাড় দেয় বাইডেন প্রশাসন।
দোন্থি বলেন, খুব বেশি দিন হয়নি, ভারত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কেনা সত্ত্বেও শাস্তি এড়াতে পেরেছে। অথচ এখন ভারতের বহুমুখী নীতি ট্রাম্পের লেনদেনভিত্তিক ভূরাজনীতির সঙ্গে টক্কর খাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের নীতি ও অবস্থান ভারতের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।
প্রাভীন দোন্থি বলেন, স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বের ইতিহাসের কারণে ওয়াশিংটনের প্রতি নয়াদিল্লির একধরনের অনাস্থা আছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে দেখা গেছে। চলতি বছর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। তিনি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন, যা বিরল ঘটনা। আর এতে নয়াদিল্লির উদ্বেগ বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উত্থান-পতনের মধ্যেও একটি মূল কৌশলগত জায়গায় তারা এক থেকেছে। তা হলো চীনের উত্থানের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশই একই ধরনের উদ্বেগ বোধ করে।
এশিয়ায় মার্কিন কৌশলের পরিবর্তন
২০১১ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ‘রিব্যালেন্স টু এশিয়া’ নীতি গ্রহণ করে। এই নীতির লক্ষ্য ছিল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পদের আরও বেশি ব্যবহার করা। এশিয়াকে তখন বিশ্বের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের এ নীতির আওতায় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো চুক্তিবদ্ধ মিত্রদের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। ভারত ও ভিয়েতনামের মতো উদীয়মান সহযোগীদের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক শক্তিশালী হয় এবং ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তির মতো বাণিজ্য উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেওয়া হয়।
আর এসবের লক্ষ্য ছিল, এমন একটি আঞ্চলিক ব্যবস্থা তৈরি করা, যা চীনের উত্থানের লাগাম টেনে ধরতে পারে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই নীতির অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। ২০১৭ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র টিপিপি চুক্তি থেকে বের হয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে চুক্তির মূল বাণিজ্য স্তম্ভই সরে যায়। তবে চুক্তি থেকে সরে গেলেও ট্রাম্প তখন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্রদের বাণিজ্য আলোচনায় বসতে বাধ্য করেননি। ভারতের ওপর ট্রাম্প এখন যে ধরনের শুল্ক আরোপ করেছেন, সে ধরনের শুল্কও তখন আরোপ করেননি।
রাশিয়া-ভারত-চীন ত্রয়ী হচ্ছে
ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মুখে ভারতও নিজের কূটনীতি কাজে লাগাচ্ছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল চলতি মাসের শুরুতে মস্কো সফর করে পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই মাসের শেষে রাশিয়ায় সফর করবেন। এ ছাড়া আগস্টে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নয়াদিল্লি সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মাসের শেষে মোদি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফর করবেন। এটি হবে সাত বছরের মধ্যে তাঁর প্রথম চীন সফর।
ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে, নতুন করে রাশিয়া-ভারত-চীন ত্রিপক্ষীয় জোট (আরআইসি) গড়ে তোলার প্রস্তাবও তারা বিবেচনা করতে পারে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ নতুন করে এ জোটের যাত্রা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
প্রথম ১৯৯০-এর দশকে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতামূলক জোট গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ২০০২ সালে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। লাভরভ এ ধারণার জন্য রাশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত ইয়েভজেনি প্রিমাকভকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।
প্রথম প্রতিষ্ঠার পর আরআইসি নিয়মিত সভা করেছে। তবে গত কয়েক বছর তা থেমে গিয়েছিল। জোটের শেষ বৈঠক হয় ২০১৯ সালে জাপানের ওসাকা শহরে। জি-২০ সম্মেলন চলার ফাঁকে এ বৈঠক হয়।
এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, মোদিকে খুব কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভারত নিশ্চয় রাশিয়াকে প্রত্যাখ্যান করবে না। কারণ, তারা বিশেষ সহযোগী। ভারত তার বন্ধুদের প্রত্যাখ্যান করে না।
কুগেলম্যান মনে করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন যদি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়, তা ভারতের জন্য সবচেয়ে ভালো ফল বয়ে আনবে। কারণ, বাস্তবতা হলো রাশিয়াকে চাপ দেওয়ার জন্যই ভারতকে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প।
আরআইসি জোট কি কার্যকর হবে
কুগেলম্যানের মতে, আরআইসি জোট শেষ পর্যন্ত একটা প্রতীকী জোট হিসেবে থেকে যাবে।
আরআইসি জোটকে ত্রিভুজ হিসেবে উল্লেখ করে কুগেলম্যান বলেন, ত্রিভুজের একটি অংশ একেবারেই ছোট ও ভঙ্গুর: তা হলো ভারত-চীন সম্পর্ক।
এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও ভারত ও চীন এখনো কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে গেছে। কারণ, হিমালয় সীমান্তে চার বছর ধরে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার পর তারা শেষ পর্যন্ত গত বছর সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হয়। মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং কাজানে বৈঠক করেন। তবে তাদের দীর্ঘদিনের সীমান্তবিরোধ এখনো মেটেনি। এ ছাড়া এশিয়ার এই দুই শক্তিধর দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এখনো কম।
কার্নেগি এনডোমেন্টের বিশেষজ্ঞ বৈষ্ণবও এ ব্যাপারে একমত।
বৈষ্ণব বলেন, ‘কিছু সুযোগসন্ধানী সময় ও ক্ষেত্রে দেশগুলোর স্বার্থ মিলতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতের বাইরে রাশিয়ার কাছে ভারতকে দেওয়ার মতো বিশেষ কিছু নেই। চীনের সঙ্গে (ভারতের) অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু উন্নতি দেখা গেলেও বড় ধরনের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বিরোধ সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়াটা কঠিন।’
অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক জন দানিলোভিচ একসময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে কাজ করেছেন। তাঁর মতে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব পুরোপুরি ভেঙে পড়াটা দুই দেশের কারোর জন্যই লাভজনক হবে না। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা চলতে থাকবে। হয়তো সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় খোলাখুলিভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনা কম দেখা যাবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ দোন্থি মনে করেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সম্পর্কের অবনতি ঠেকানোর মতো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তাহলে তা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
তবে দোন্থির মতে, এ ক্ষেত্রে উষ্ণতা ও বন্ধুত্ব থাকবে না এবং তা কিছু সময় ধরে দৃশ্যমান হবে।
বিষয় : ভারত ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
