মালয়েশিয়ার সুবাং জায়ার পুচোং এলাকার জালান পুত্রা হারমোনিতে পেট্রোনাস গ্যাস পাইপলাইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আগুন জ্বলছে এবং এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। দেশটির সরকারি নিউজ এজেন্সি বার্নামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক বাসিন্দা ঘটনাস্থলের বাইরে জড়ো হয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করছিলেন, তবে পুলিশ তাদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে পেট্রোনাস গ্যাস পাইপলাইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কমপক্ষে ১১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৮:১০ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুর বেজড আন্তর্জাতিক মাধ্যম সিএনএ। তবে আহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এক নারী, যিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, তিনি মালয় মেইলকে জানিয়েছেন যে, তার দাদাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ভেতরে যেতে পারিনি, তবে ফোনে যোগাযোগ করতে পেরেছি। তিনি জানিয়েছেন যে কর্তৃপক্ষ তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছে।’
এদিকে সিএনএ আরো জানিয়েছে, সেলাঙ্গর ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের সহকারী পরিচালক আহমাদ মুখলিস মুক্তার সিএনএকে জানিয়েছেন, ‘লিক হওয়া পাইপলাইনে প্রায় ৫০০ মিটারজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।’ আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে তা স্পষ্ট দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হরবান সিংহ (৭০) এর উদ্ধৃতি দিয়ে মালয় মেইল আরো জানিয়েছে, সকালে জগিংয়ে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি আগুন দেখতে পান। প্রথমে দেখি বিশাল আগুনের শিখা। এখন তিন ঘণ্টার বেশি হয়ে গেছে, আগুন কিছুটা কমলেও এখনো প্রবলভাবে জ্বলছে।
তিনি আরও জানান, আগুনের তীব্র উত্তাপ আশপাশের বাড়িগুলোতে অনুভূত হয়েছে, এমনকি কিছু বাড়ির জানালার কাচ তাপে ফেটে গেছে।
অন্যদিকে, তামান তাসিক প্রিমার বাসিন্দা কে. বাত্মাবতী বলেন, তার এলাকা, যা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ১০ মিনিট দূরে, সেখানেও বিস্ফোরণের প্রভাব পড়েছে। আমার বাড়ির চারপাশে বালির গুঁড়ো ছড়িয়ে পড়েছে, যা সম্ভবত বিস্ফোরণের কারণে হয়েছে। অফিস যাওয়ার প্রস্তুতির সময় আমি বিষয়টি লক্ষ্য করি।
এখনো পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।