× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম স্থান ডেথ ভ্যালি

মো.ইলিয়াছ হোসেন

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:১৫ এএম । আপডেটঃ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:১৫ এএম

ডেথ ভ্যালি | ছবি—রয়টার্স

পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ স্থানের নাম ডেথ ভ্যালি। এই স্থানটির অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯১৩ সালের ১০ জুলাই। তখন তাপমাত্রা ছিল ৫৬.৭ ডিগ্রি। তবে গ্রীষ্মের সময় এই অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে। তবে এই তাপমাত্রা হলো ওই অঞ্চলের বাতাসের তাপমাত্রা। পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এরচেয়ে অনেক বেশি থাকে। বুঝলেন না তো। বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলা দরকার।

ডেথ ভ্যালি হলো একটা মরুভূমি। এখানে শুধু বালিয়াড়ি আর গভীর খাদ। সেখানে কয়েকশ মানুষও বাস করে। আজ বরং জানা যাক, এই স্থানের নাম কেন ডেথ ভ্যালি হলো।

কিছুদিন আগে যখন দেশে প্রচণ্ড গরম পড়েছিল, তখন আমরা দুই ধরনের তাপমাত্রা টের পেয়েছি। খালি পায়ে হাটলে কিংবা স্বাভাবিকভাবে ঘরে বসে থাকলে যে তাপমাত্রা টের পাই, সেটা হলো পৃষ্ঠের তাপমাত্রা। অথবা আপনার যদি সাইকেল কিংবা গাড়ি থাকে, দেখবেন সেটা রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখলে এর আসন গরম হয়ে যায়। সেটা হোক সাইকেল কিংবা গাড়ি। এই তাপমাত্রাটা হলো পৃষ্ঠের তাপমাত্রা। আর হাঁটার সময় গায়ে যে বাতাস লাগে, সেই বাতাসের যে তাপমাত্রা, তাহলো বাতাসের তাপমাত্রা। ডেথ ভেলির বাতাসের গড় তাপমাত্রাই থাকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি।

১৯৭২ সালের ১৫ জুলাই, ডেথ ভ্যালির পৃষ্ঠের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গরমের চেয়ে তিনগুণ বেশি গরম। আর মাত্র কয়েক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ালে পানি ফুটে বাষ্প হয়ে যাবে। এরপর বিভিন্ন সময় এরচেয়ে বেশি তাপমাত্রার দাবি করা হয়েছে ডেথ ভ্যালিতে, কিন্তু সে তাপমাত্রা কেউ পরীক্ষা বা যাচাই করে দেখেনি। তাই তা আর এখানে বলছি না। তবে লিবিয়ায় ১৯২২ সালে তাপমাত্রা বেড়ে ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল। তবে ২০১২ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে লিবিয়ার তাপমাত্রা ঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। এই তাপমাত্রা আরও কম ছিল।

১৮৫০ সালের দিকে এখানে একদল মানুষ এসে বাস করতে শুরু করে। তখন অবশ্য শীতকাল ছিল। কিন্তু শীতকালেও সেখানে প্রচণ্ড গরম থাকে। এই গরমের কারণে দলের অনেকে মারাও গেছেন। অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাতে হয়ত বাকিদেরও এখানেই মরতে হবে। এই যখন ভাবছেন তারা, ঠিক তখন তাদের কাছে দূত হয়ে আসে দুজন যুবক। উইলিয়াম ও রজার্স নামে ওই দুই ব্যক্তি তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করেন। তারা আসলে হেলিকপ্টারা নিয়ে ওই অঞ্চল দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তাদের দেখতে পান। ফলে প্রাণে বেঁচে যায় বেড়াতে যাওয়া কিছু মানুষ। হেলিকপ্টারে উঠে তারা নিচের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘বিদায় ডেথ ভ্যালি’। এর পর থেকে ওই স্থানের নাম হয়ে যায় ডেথ ভ্যালি।

ডেথ ভ্যালিতে সব সময় মৃত্যু হাতছানি দিয়ে ডাকলেও মানুষের কিন্তু সেখানে যাওয়া বন্ধ হয়নি। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কে ঘুরতে যায়। দেখার মতো বেশ কিছু জায়গা আছে সেখানে। যেমন টেলিস্কোপ পিক হলো ডেথ ভ্যালির সর্বোচ্চ উচ্চ স্থান। সেখান থেকে দেখা যায় রঙ-বেরঙের পাথরের পাহাড়। 

আবার প্রচলিত আছে, এখানকার পাথর নাকি নিজেই চলেফেরা করতে পারে। একটা নির্দিষ্ট পাথরকে কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করা হলে দেখা যাবে, সেটা জায়গা পরিবর্তন করে আঁকাবাঁকা পথ করে এগিয়ে গেছে সামনে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটা বাতাসের কারণে হয়। তবে এটাও একটা রহস্য বটে। কারণ, পাথরগুলোর ওজনও তো কম নয়। কয়েক শ টন হতে পারে একেকটা পাথর।

বিষয় : ডেথ ভ্যালি

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.