২১ জুলাই হামে আক্রান্ত চার বছরের শিশুকন্যাকে কাফরুল থেকে ডিএনসিসি হাসপাতালে নিয়ে আসেন বাবা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত
দেশে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়া হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ৪১ জনের শরীরে এ ব্যাধির উপসর্গ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন করে মারা যাওয়া শিশুদের একজন সুনামগঞ্জ এবং অপরজন গাইবান্ধার। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশে রেকর্ড ৪২ হাজার ১৭৪ জন আক্রান্তের তথ্য নিশ্চিত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, উক্ত সময়ে পুরো বিশ্বে বাংলাদেশেই সর্বাধিক হাম রোগী পাওয়া গেছে। বিগত ১৩০ দিনে দেশে হামে মৃতের সংখ্যা ৯৫ এবং উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৭১০ জনে গিয়ে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে সর্বাধিক মৃত্যু দেখেছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে মোট ৩৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০৯ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে সিলেট বিভাগে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯২, ময়মনসিংহে ৬৯, চট্টগ্রামে ৬৬, বরিশালে ৬২, খুলনায় ৩১ এবং রংপুর বিভাগে ১০ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আজ রাজধানীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে ভর্তি থাকা চার বছর বয়সী শিশু মাহিয়া চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেলে স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৬ জনের শরীরে সরাসরি হাম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, তারা দেশের আটটি বিভাগে চলতি বছর ১০৩ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় এনেছে এবং মোট ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৫ ডোজ টিকা প্রদান সম্পন্ন করেছে। তবে এই টিকাদানের বাস্তবিক কার্যকারিতা ও সুষম প্রয়োগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, "স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে কাজ করলেও ৯৫ শতাংশ শিশুকে সঠিকভাবে টিকা দেওয়া ছাড়া হাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। শহর ও গ্রামের প্রান্তিক শিশুরা টিকার আওতায় এসেছে কি না। তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। জ্বর আসা শিশুদের হাসপাতালে এনে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুহার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।"
সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ও নিয়মিত জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের যে সুনাম ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের সূচকে ঘাটতির কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে বাংলাদেশের এই শীর্ষ অবস্থান স্বাস্থ্য খাতের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।
প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার নজরদারি বাড়ানো। শনাক্ত রোগীদের দ্রুত ডেঙ্গু ও হাম পৃথকীকরণ এবং দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না গেলে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়েতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
