দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এই ভাইরাসের সংক্রমণে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হামবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৯ জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে ১২৮ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং বাকি ৯০১ জন এই রোগের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মৃত ৩টি শিশুর অবস্থান ঢাকা, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত মোট ৯৩ জন শিশু ল্যাব-পরীক্ষিত হামে এবং ৬৫৭ জন শিশু হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, "গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ২২৫টি শিশু হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৩২৬ জনের দেহে এবং বাকি ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জন শিশু প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছে।"
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৯২ হাজার ৮৩১ জন শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৮৯ হাজার ২৩৪ জন। তবে দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এখনও হাজার হাজার শিশু চিকিৎসাধীন থাকায় সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুততম সময়ে পুষ্টি ও চিকিৎসা সহায়তার আওতায় আনা জরুরি। আগামী দিনগুলোতে এই সংক্রমণ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে নিবিড় নজরদারি বাড়ানো না হলে শিশু স্বাস্থ্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।