দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে গত এক দিনে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪৫ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৬ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে শুধু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৩ জন। অন্যদিকে, ল্যাব টেস্টের চূড়ান্ত ফল আসার আগেই হামের লক্ষণ ও শারীরিক জটিলতা নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬৫২ জন।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৮৩ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ৮৯, সিলেটে ৮৬, ময়মনসিংহে ৬২, চট্টগ্রামে ৫৩, বরিশালে ৪১, খুলনায় ২৯ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের তীব্র লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতালগুলোতে আরও ৭৯৬ জন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৭৪৮ জনকে দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "গত সাড়ে তিন মাসে হামের লক্ষণ নিয়ে সর্বমোট এক লাখ আট হাজার ১৮০ জন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ইতিমধ্যে ১৩ হাজার ৭০ জনের শরীরে ভাইরাসের চূড়ান্ত সংক্রমণ নিশ্চিত করা গেছে। গ্রামীণ ও ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে টিকাদান জোরদার না করলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।"
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান সূচক নির্দেশ করে যে টিকাদানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা থেকে কোনো কোনো অঞ্চল ছিটকে পড়েছে। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে জরুরি আইসোলেশন ও বিশেষ ক্যাম্পেইনের ব্যবস্থা করা না হলে আগামী দিনগুলোতে দেশের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।