কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) দেশের ১১টি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি হাসপাতালের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে রাজধানী ঢাকার দুটি বড় হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে জরুরি সতর্কঘণ্টা বা ‘পাগলাঘণ্টা’ (সেন্ট্রাল অ্যালার্ম সিস্টেম) বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই পাইলটিং প্রকল্প চালু করা হবে, যার লক্ষ্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো হাসপাতালের জনবলকে একতাবদ্ধ ও সতর্ক করা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের ১১টি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর হস্তান্তরকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘোষণা দেন। দেশের চিকিৎসা খাত ও সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ, প্রভাব বিস্তার এবং চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা নিরসনে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটার দরপত্র নিয়ে পেশীশক্তি প্রদর্শন ও চিকিৎসকদের হুমকির মুখে ফেলার ঘটনাগুলো আমলে নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার দুটি শীর্ষ হাসপাতালে এই কেন্দ্রীয় অ্যালার্ম ব্যবস্থা সফল হলে পরবর্তীতে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকদের আবাসন ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষায় উপজেলা হাসপাতালগুলোতে সশস্ত্র আনসার বাহিনী মোতায়েনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা পাইলটিং স্কিমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাগলাঘণ্টার ব্যবস্থা করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। নিরাপত্তাহীনতায় ডাক্তাররা বা রোগীরা ভুগলে এই ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম বাজালে যাতে সব ডাক্তাররা একত্রিত হতে পারেন। সরকারি কেনাকাটায় সর্বনিম্ন মূল্যে কিনতে গেলে সন্ত্রাসীদের মদতে প্রভাব খাটানো হয় এবং কাজ না দিলে ডাক্তারদের ওপর আক্রমণ করা হয়। এই সুযোগ নিচ্ছে ফ্যাসিবাদের দোসররা। আমরা প্রত্যেকটা উপজেলা হাসপাতালে একজন প্লাটুন কমান্ডারসহ ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার দিচ্ছি, যার কাজ পুরোদমে চলছে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিশাল এই জনবল বিন্যাস ও রিপোর্টিংয়ের জন্য কিছুটা সময় লাগলেও আগামী ঈদুল আজহার পরপরই দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসক, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি মোতায়েন হয়ে যাবে। পাশাপাশি ঢাকার মহাখালী হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং চারপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করারও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সবার আগে প্রয়োজন চিকিৎসকদের নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ। হাসপাতালে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি এই ধরনের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা অ্যালার্ম ব্যবস্থা ও সশস্ত্র প্রহরা চালু করা গেলে তা স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক সেবার মান উন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
