× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, ২৪ ঘণ্টায় ১১ মৃত্যু

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪৭ পিএম । আপডেটঃ ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৩ পিএম

দেশের একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে শয্যাসঙ্কটের কারণে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হামে আক্রান্ত শিশুদের। ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে অতিসংক্রামক ব্যাধি হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে এবং বাকি ১০ জন ‘সন্দেহজনক হাম’ নিয়ে মারা গেছে। ক্রমবর্ধমান এই প্রাদুর্ভাবে গত ২৩ দিনে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৯ জনে। হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই, মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে আক্রান্ত শিশুদের, যা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এক চরম চাপ সৃষ্টি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৬৪১ জন। বর্তমানে দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ১,৩৯৮ এবং সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার।

ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে গত একদিনে ২৫৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগেও সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে সুস্থতার হার, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮৫ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

দেশের বৃহৎ সরকারি হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক।

ময়মনসিংহ

মমেক হাসপাতালে ৬৪ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসাধীন ৮০ শিশু। স্থান সংকুলানে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

কুমিল্লা

কুমেক হাসপাতালে ৪০ শয্যার বিপরীতে ৫৯ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক অভিভাবককে তাদের সন্তানদের হাসপাতালের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

রাজশাহী

রামেক হাসপাতালসহ বেসরকারি ক্লিনিকেও বাড়ছে মৃত্যু। রামেক মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৮টি আইসিইউ ও বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই নিয়মিত টিকা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়া শিশু। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগীয় প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, অনেক অভিভাবক স্বীকার করেছেন যে তারা তাদের সন্তানকে হামের টিকা দেননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা মূলত দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের আক্রমণ করে। ৯ মাস থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় বর্তমানে আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানিয়েছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং টিকা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী ৩ মে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে বৃহৎ পরিসরে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ—শিশুর শরীরে জ্বর, কাশির পর লালচে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

হামের এই বর্তমান প্রকোপ কেবল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং টিকাদান কর্মসূচির তৃণমূল পর্যায়ের কোনো এক অদৃশ্য ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১১টি শিশুর মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে প্রাণ হারানো আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগে চরম ট্র্যাজেডি। জনসচেতনতা এবং রাষ্ট্রীয় তদারকির সমন্বয় না ঘটলে এই মহামারি পরিস্থিতি অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.