বাজার থেকে কেনা আম কৃত্রিম কার্বাইড ও বিষাক্ত কীটনাশকমুক্ত কিনা তা ঘরে বসে পানির বাটিতে ভিজিয়ে এবং অন্যান্য সহজ পরীক্ষা প্রটোকল মেনে নিশ্চিত করছেন এক ভোক্তা।
আম খাওয়ার মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও দেশের স্থানীয় বাজারগুলোতে এখনো অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম কার্বাইড ও বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করা বিপজ্জনক আমের অবাধ বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত মুনাফালোভীদের রাসায়নিক চক্রান্ত থেকে সুরক্ষিত থাকতে আমপ্রেমীরা এখন নিজের ঘরেই মাত্র পাঁচটি সহজ ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে পারেন।
ভোজ্যপণ্যে বিষাক্ত কেমিক্যালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বর্তমানে এক গুরুতর বৈশ্বিক ও জাতীয় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেমিক্যালযুক্ত এই আম গ্রহণে তাৎক্ষণিক পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি প্রাণঘাতী প্রভাব পড়তে পারে।
"নিয়মিত বিষাক্ত কীটনাশক ও শিল্পে ব্যবহৃত কৃত্রিম কার্বাইডযুক্ত আম খেলে মানুষের পরিপাকতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস, তীব্র মাইগ্রেন এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো কায়িক ও দূরারোগ্য ব্যাধির ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।"
— ড. এ. কে. এম. মোস্তফা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
ঘরে বসেই বিষাক্ত আম শনাক্তের ৫টি সহজ পরীক্ষা:
১. খোসার সাদাটে বা ধূসর আস্তরণ পরীক্ষা
আম কেনার সময় তার খোসার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি। খোসার ওপর পাউডারের মতো ধূসর বা সাদাটে ছোপ ছোপ আস্তরণ জমে থাকলে বুঝতে হবে সেটিতে অতিরিক্ত কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফলের খোসা মসৃণ ও কোনো রাসায়নিক পাউডারমুক্ত থাকে।
২. রঙের কৃত্রিম সমতা পর্যবেক্ষণ
কীটনাশক ও কার্বাইড দিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো আম দেখতে নিখুঁত ও গাঢ় হলুদ রঙের হয়, কোথাও কোনো সবুজ ভাব থাকে না। কিন্তু গাছে পাকা স্বাভাবিক আমের রঙের সমতা থাকে না—তার কিছু অংশ হলুদ হলে, কিছু অংশে হালকা সবুজ বা লালচে ভাব বজায় থাকে।
৩. বোঁটার সুগন্ধ ও শুষ্কতা পরীক্ষা
রাসায়নিকমুক্ত তাজা আমের বোঁটার কাছে মিষ্টি ও তীব্র প্রাকৃতিক সুগন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে কেমিক্যালযুক্ত আমের বোঁটা থেকে সুগন্ধ বের হয় না, বরং অনেক সময় ঝাঁঝালো রাসায়নিক বা ওষুধের কটু গন্ধ পাওয়া যায়। পাশাপাশি বোঁটার চারপাশ শুকানো ও কালো দেখায়।
৪. পানির বালতিতে ডুবিয়ে পরীক্ষা
বাজার থেকে আনা আম এক বালতি পানিতে ছেড়ে দিলে যদি সেগুলো তলায় ডুবে যায়, তবে আমগুলো প্রাকৃতিকভাবে পাকা ও নিরাপদ। কিন্তু আম পানিতে ভেসে থাকলে বুঝতে হবে সেটিতে কার্বাইড বা ভারী কীটনাশক প্রয়োগ করায় ভেতরের প্রাকৃতিক রস শুকিয়ে তা ফাঁপা হয়ে গেছে।
৫. ভেতরের শাঁস ও মুখের স্বাদ গ্রহণ
কীটনাশকযুক্ত আমের বাইরের খোসা গাঢ় হলুদ হলেও কাটার পর ভেতরের শাঁস সাদাটে বা হালকা হলুদ রয়ে যায়। এ ছাড়া এই আম মুখে দিলে স্বাভাবিক মিষ্টি স্বাদের চেয়ে জিভে হালকা কষায় বা জ্বালাপোড়া অনুভূতি হতে পারে, যা সরাসরি রাসায়নিকের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।
-6a7715724b4fd.jpg)
কীটনাশকের বিষমুক্ত করার ঘরোয়া প্রটোকল
আম খাওয়ার অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে সেটিকে সাধারণ পানির বালতিতে ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পানিতে সামান্য বেকিং সোডা বা ভিনেগার মিশিয়ে ধুয়ে নিলে এবং খাওয়ার সময় খোসাটি একটু মোটা করে কেটে বাদ দিলে বিষাক্ততার ঝুঁকি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
