× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

টাওয়ার ছাড়াই চলবে মোবাইল

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১০ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৭ পিএম । আপডেটঃ ১০ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৮ পিএম

কোনো প্রথাগত মোবাইল টাওয়ারের সংযোগ ছাড়াই সরাসরি মহাকাশের কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা দিচ্ছে আধুনিক ‘ডাইরেক্ট টু সেল’ (ডিটুসি) প্রযুক্তি।

দেশের পার্বত্য অঞ্চল, সুন্দরবন কিংবা গভীর বঙ্গোপসাগরের মতো নেটওয়ার্কবিহীন দুর্গম জনপদে সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোবাইল সংযোগ সচল করতে যুগান্তকারী ‘ডাইরেক্ট টু সেল’ (ডিটুসি) প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সহযোগিতায় বেসরকারি মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক গত মে মাস থেকে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় এই সেবার পরীক্ষা চালাচ্ছে। প্রথাগত কোনো মোবাইল টাওয়ার ছাড়াই সাধারণ ফোর-জি স্মার্টফোনে দ্বিমুখী খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানোর এই পরীক্ষার ফলাফল এখন পর্যন্ত ইতিবাচক বলে নিশ্চিত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৯ কোটি মোবাইল গ্রাহকের বিপরীতে ১২ কোটির বেশি মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। অপারেটরদের প্রায় ২৮ হাজার টাওয়ার সচল থাকলেও অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক হওয়ায় পাহাড়, উপকূল বা চরাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় পর্যাপ্ত টাওয়ার বসানো সম্ভব হয়নি। ফলে জরুরি মুহূর্তে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব অঞ্চলের মানুষ চরম নেটওয়ার্ক ঝুঁকিতে পড়েন। যার বিকল্প হিসেবে এই মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি কাজ করবে।

টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, "সুন্দরবনের গভীরে, পাহাড়ে বা সমুদ্রের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলেও খুদে বার্তা পাঠিয়ে দুই দিক থেকেই যোগাযোগ রাখা সম্ভব হচ্ছে। স্টারলিংকের পরবর্তী প্রজন্মের স্যাটেলাইট কক্ষপথে পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় হলে ভবিষ্যতে ভয়েস কলের সুযোগও আসতে পারে।"

ডিটুসি প্রযুক্তিতে মুঠোফোনের সংকেত কাছাকাছি কোনো টাওয়ারে না গিয়ে সরাসরি স্টারলিংকের স্যাটেলাইটে পৌঁছায়‌। পরে গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে মূল অপারেটরের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো। এর জন্য গ্রাহকের কোনো বিশেষ স্যাটেলাইট ফোনের প্রয়োজন হবে না। মোবাইল কভারেজের বাইরে গেলেই সাধারণ হ্যান্ডসেটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাবে।

আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফরচুন বিজনেস ইনসাইটসের চলতি বছরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলই হতে যাচ্ছে ডিটুসি প্রযুক্তির সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল বাজার। ইতিমধ্যে ফিলিপাইনে গ্লোব টেলিকম স্টারলিংকের সহায়তায় বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করেছে। সম্প্রতি মিন্দানাওয়ের শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, "স্টারলিংকের সঙ্গে এই উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল ইতিবাচক। বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে প্রথম পর্যায়ে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং সেবা পাওয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।"

তবে পরীক্ষামূলক সফলতার পরও এর বাণিজ্যিক যাত্রা আন্তর্জাতিক নীতিমালার ওপর নির্ভর করছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) নিয়ম অনুযায়ী। মুঠোফোনের তরঙ্গ স্যাটেলাইট সেবায় ব্যবহারের বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত হবে ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিও কনফারেন্সে।

বাণিজ্যিক অনুমোদনের আইনি বাধ্যবাধকতা প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানান, "মোবাইল সেবার জন্য নির্ধারিত আইএমটি ব্যান্ডের তরঙ্গ স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবায় ব্যবহার করা হবে কি না। তা নিয়ে আইটিইউতে এখনো আলোচনা চলছে। আইটিইউর দিকনির্দেশনা এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।"

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.