× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যে জাদুতে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ হলেন ইলন মাস্ক

১২টি শূন্যের মালিক

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৩ জুন ২০২৬, ১৫:০৯ পিএম । আপডেটঃ ১৩ জুন ২০২৬, ১৬:৫৪ পিএম

টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।

প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষ পরাশক্তি, স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ বা এক লাখ কোটি ডলারের নিট সম্পদের মালিক হওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছেন। ১ সংখ্যার পর ১২টি শূন্য বসিয়ে হিসাব করা এই বিপুল অঙ্কের সম্পদ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার সমতুল্য। যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে মাস্কের প্রভাবকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

চলতি বছরের (২০২৬) জুন মাসে তার মালিকানাধীন রকেট নির্মাতা ও স্যাটেলাইট অপারেটর কোম্পানি 'স্পেসএক্স' পুঁজিবাজারে (পাবলিক) তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই অভাবনীয় আর্থিক মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। 

বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়নের যাত্রা

বেশ কিছু বছর ধরে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রথম সারিতে থাকা মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির গ্রাফটি ছিল রকেটের মতোই ঊর্ধ্বমুখী। ফোর্বস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৫০০ বিলিয়ন (অর্ধ-ট্রিলিয়ন) ডলারের নিট সম্পদ অর্জন করেন তিনি। এর ঠিক এক মাস পর, টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা তার জন্য একটি রেকর্ড গড়া পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন করেন। যার সম্ভাব্য মূল্য ছিল এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। তবে ২০২৬ সালের জুনে স্পেসএক্স পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার পর এক্স (সাবেক টুইটার), গ্রক এবং স্টারলিংক-এর মূল প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর বাজারমূল্য মাস্ককে সরাসরি ট্রিলিয়নেয়ারের ক্লাবে উন্নীত করে।

আজকের এই বিপুল সাম্রাজ্যের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম নেওয়া এক শিশুর কঠিন লড়াইয়ের গল্প। শৈশবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, সহপাঠীদের দ্বারা মারাত্মক বুলিং বা হয়রানি এবং ‘অ্যাসপারগার সিনড্রোম’-এর কারণে সামাজিক যোগাযোগের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করতে হয়েছে মাস্ককে। তবে সহজাত ব্যবসায়িক বুদ্ধির জোরে মাত্র ১২ বছর বয়সেই নিজের প্রথম কম্পিউটার গেম তৈরি করেছিলেন তিনি। সুযোগ পাওয়া মাত্রই প্রিটোরিয়া ছেড়ে প্রথমে কানাডা এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও পদার্থবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

মাস্কের প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক ২০১০ সালে ম্যারি ক্লেয়ার ম্যাগাজিনে এক প্রবন্ধে তার জেদি ও আধিপত্যকামী মানসিকতার ওপর আলো ফেলে লিখেছিলেন, "বিপুল অর্থ উপার্জনের আগেই মাস্ক ছিলেন ‘না-কে কখনও মেনে না নেওয়া’ একজন মানুষ। প্রতিযোগিতা এবং আধিপত্য বিস্তারের যে তীব্র ইচ্ছা তাকে ব্যবসায় সফল করেছে, ঘরে ফেরার পরও তা থামত না। এমনকি আমাদের বিয়ের নাচের সময়ও সে আমাকে বলেছিল, 'এই সম্পর্কে আমিই আলফা'।"

১৯৯০-এর দশকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম শুরু করেই তা ছেড়ে দেন মাস্ক। এরপর প্রতিষ্ঠা করেন দুটি সফল প্রযুক্তি স্টার্ট-আপ। এর মধ্যে একটি অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে 'পেপ্যাল'-এ রূপান্তরিত হয় এবং ২০০২ সালে ই-বে'র কাছে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। সেই অর্থ দিয়েই নাসার বিকল্প হিসেবে কম খরচে মহাকাশ অভিযানের লক্ষ্যে 'স্পেসএক্স' এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড 'টেসলা'র সূচনা করেন। ২০২৪ সাল জুড়ে টেসলার কাছ থেকে ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিক প্যাকেজ নিয়ে আইনি জটিলতা চললেও, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডেলাওয়্যার সুপ্রিম কোর্ট তা মাস্কের পক্ষে পুনর্বহাল করে। বর্তমানে ডিজিটাল মুদ্রা এবং টানেল নির্মাতা 'দ্য বোরিং কোম্পানি'সহ একাধিক খাতে তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

মাস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং টেসলার অন্যতম বিনিয়োগকারী রস গার্বার বলেন, "ইলন কেবল তখনই কোনো বিষয়ে জড়িত হন, যখন তিনি মনে করেন যে সেটি কোনো কারণে সমাজ বা মানবতার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"


রাজনৈতিক ক্ষমতার বলয় ও ট্রাম্পের সাথে বৈরিতা

নিজেকে একসময় "অর্ধেক ডেমোক্র্যাট, অর্ধেক রিপাবলিকান" এবং রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থি দাবি করা মাস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কট্টর ডানপন্থি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে সর্বশক্তি নিয়োগ করার পর তিনি সরকারের ব্যয় সংকোচন সংক্রান্ত 'ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট ইমার্জেন্সি'র দায়িত্ব পান। তবে কর ও সরকারি ব্যয় সংক্রান্ত তীব্র বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ২৮শে মে মাস্ক হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং ট্রাম্পের সাথে তার প্রকাশ্য দূরত্বের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি এক্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের স্যার কিয়ের স্টারমারের লেবার সরকারের কড়া সমালোচনা করেও তিনি বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ইলন মাস্ক ১৪ সন্তানের জনক, যা তার মতে বৈশ্বিক জনসংখ্যা হ্রাসের সংকটের বিরুদ্ধে একটি ব্যক্তিগত লড়াই। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে ৬ সন্তান ছাড়াও সংগীতশিল্পী গ্রাইমসের ৩ জন, নিউরোলিংক নির্বাহী শিভন জিলিসের ৪ জন এবং ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলি সেইন্ট ক্লেয়ারের গর্ভে তার ১ সন্তান রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই ক্লেয়ারই মাস্কের কোম্পানি 'এক্সএআই'-এর বিরুদ্ধে তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত 'গ্রক' ব্যবহার করে যৌন উদ্দীপক ডিপফেক তৈরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ারের মুকুট পরলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বৈশ্বিক জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন মাস্ক। তার মতে, এআই-এর লাগামহীন অগ্রগতি মানুষের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। প্রযুক্তির একাধিপত্য, বিপুল সম্পদ এবং এক্স-এর মতো শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ মাস্ককে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। যেখানে তার একটি একক মন্তব্য বিশ্ব শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। সমালোচকদের মতে বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ এবং আইনি লড়াই সত্ত্বেও, ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের এই জয়যাত্রা আগামী দিনে মানব সভ্যতার গতিপথ কোন দিকে নিয়ে যায়। এখন সেটিই দেখার বিষয়।


তথ্যসূত্র: বিবিসি 



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.