আকাশপ্রেমীদের জন্য আজ এক বর্ণিল ও বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ রোববার রাতে দেশের আকাশে দেখা মিলবে চলতি মে মাসের দ্বিতীয় পূর্ণিমা, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লু মুন’ নামে পরিচিত। ১ মে চলতি মাসের প্রথম পূর্ণিমা সম্পন্ন হওয়ার পর আজ ৩১ মে লুনার সাইকেল বা চন্দ্র চক্রের বিশেষ বিন্যাসের কারণে একই মাসে এই দ্বিতীয় পূর্ণিমার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে স্বাভাবিক বছরের ১২টি পূর্ণিমার পরিবর্তে চলতি বছর মোট ১৩টি পূর্ণিমা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন বিশ্ববাসী।
‘ব্লু মুন’ বা নীল চাঁদ নাম হলেও আজ রাতের আকাশে চাঁদের রঙে কোনো নীল আভা থাকবে না, এটি মূলত সৌর ক্যালেন্ডারের সাথে চন্দ্র মাসের সময়ের পার্থক্যের একটি গাণিতিক ফল। সাধারণত সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর একবার প্রদক্ষিণ এবং পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের নিজস্ব কক্ষপথের ঘূর্ণন চক্রের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ১১ দিনের একটি ব্যবধান তৈরি হয়। এই সময়ের ঘাটতি পূরণে প্রতি দুই বা তিন বছর পর পর ক্যালেন্ডারে একটি অতিরিক্ত পূর্ণিমা যুক্ত হয়, যা একই মাসে দুবার পূর্ণ চাঁদ দেখার বিরল সুযোগ এনে দেয়।
খগোলবিদদের মতে, ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের সাথে মিল রেখে বছরের বিভিন্ন পূর্ণিমাকে ঐতিহ্যগতভাবে আলাদা নামে ডাকা হয়, যেমন ফেব্রুয়ারির পূর্ণিমাকে 'স্নো মুন', জুনের পূর্ণিমাকে 'স্ট্রবেরি মুন' এবং ডিসেম্বরের পূর্ণিমাকে 'কোল্ড মুন' বলা হয়। তবে এই নিয়মের বাইরে থাকা অতিরিক্ত পূর্ণিমাটিকেই ‘ব্লু মুন’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, "আজ রাতের আকাশে এই ব্লু মুন পূর্ব আকাশে উদিত হবে। তবে সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় এটিকে আকাশের কিছুটা নিচের দিকে বা দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে। রাতের আকাশে চাঁদটি মূলত কনস্টেলেশন ভার্গো (কন্যা রাশি)-র ঠিক ডান পাশে অবস্থান করবে।"
লুনার সাইকেলের এই ব্যতিক্রমী হিসাবের কারণে আজ রাতের আকাশ শুধু অন্ধকার দূর করবে না, বরং বিজ্ঞানচেতনা ও প্রকৃতির অপার বিস্ময়কে আরও একবার মানুষের সামনে উন্মোচিত করবে। মেঘমুক্ত আকাশ থাকলে কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতি ছাড়াই খালি চোখে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই বিরল মহাজাগতিক ক্ষণ উপভোগ করা যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদেরা।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি