চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে চার নভোচারীকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ওরিয়ন ক্যাপসুলের এই ঐতিহাসিক ‘স্প্ল্যাশডাউন’। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়েছে পাঁচটি কমলা রঙের এয়ারব্যাগ। ছবি: রয়টার্স/নাসা
মানবজাতির মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় সূচিত হলো। চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী নিয়ে ওরিয়ন মহাকাশযানটি নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার ভোর ৬টা ৭ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলরাশিতে অবতরণের (স্প্ল্যাশডাউন) মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর ও রেকর্ডভাঙা মহাকাশ যাত্রা।
পৃথিবী থেকে চাঁদে যাওয়া এবং ফিরে আসার এই দীর্ঘ পথে ওরিয়ন পাড়ি দিয়েছে মোট ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৪৮১ মাইল পথ। এর মাধ্যমে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের গড়া দূরতম স্থানে ভ্রমণের রেকর্ডটি ভেঙে মানুষ এখন মহাকাশের গভীরতম প্রদেশে নিজের পদচিহ্ন আঁকল।
মহাকাশযানটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল গতিতে প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত করে। যদিও এই গতি আপাতদৃষ্টিতে কম মনে হতে পারে, তবে বিজ্ঞানীদের মতে, পানি সংকুচিত হয় না বলে এই অবতরণ ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও শক্ত। ১০ দিন ধরে মহাশূন্যের ওজনহীনতায় (মাইক্রোগ্রাভিটি) থাকা নভোচারীদের কাছে সমুদ্রের এই ধাক্কা ছিল কোনো শক্ত দেয়ালে আঘাত করার মতো। অবতরণের পর ক্যাপসুলটি যাতে ডুবে না যায়, সেজন্য পাঁচটি কমলা রঙের এয়ারব্যাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফুলে উঠে ওরিয়নকে স্থিতিশীল রাখে।
অবতরণের পর কড়া নিরাপত্তা ও বৈজ্ঞানিক প্রোটোকল মেনে শুরু হয় উদ্ধার কাজ। নৌবাহিনীর ডুবুরিরা প্রথমে ক্যাপসুলের চারপাশের বাতাস ও পানি পরীক্ষা করেন কোনো বিষাক্ত গ্যাস আছে কি না তা নিশ্চিতে। এরপর একে একে বেরিয়ে আসেন চার সাহসী নভোচারী। ওরিয়ন থেকে সর্বশেষ বেরিয়ে আসেন অভিযানের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান।
সেখান থেকে তাদের হেলিকপ্টারে করে ‘ইউএসএস জন পি মুর্থা’ যুদ্ধজাহাজে নেওয়া হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে মেডিকেল অফিসাররা নভোচারীদের ‘গ্রিন’ ঘোষণা করেন, যার অর্থ তারা সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। দীর্ঘ মিশন শেষে তাদের রক্তচাপ, পালস এবং স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মিশন কন্ট্রোল রুমে তখন আনন্দের জোয়ার। নাসার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অমিত কেশাত্রিয়া এই সাফল্যকে ‘বিশ্বের জন্য একটি উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “দেখুন আমরা একসাথে কাজ করলে কী করতে পারি। সমস্যা যত কঠিনই হোক না কেন, সমবেত প্রচেষ্টায় তা সমাধান করা সম্ভব।”
ওরিয়ন প্রোগ্রাম ম্যানেজার হাওয়ার্ড হু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নাসার টিম বহু বছর ধরে এই মাহেন্দ্রক্ষণের স্বপ্ন দেখেছে। মানুষের মহাকাশ অনুসন্ধানে এটি এক নতুন যুগের সূচনা।”
আর্টেমিস-২ এর এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল নাসার নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য এক নতুন আশার আলো। এই মিশন প্রমাণ করল যে চাঁদ আর মানুষের নাগালের বাইরে নয়। ওরিয়নের এই নিরাপদ প্রত্যাবর্তন আগামী দিনে চাঁদে স্থায়ী বসতি গড়া এবং সেখান থেকে মঙ্গলের পথে পাড়ি জমানোর স্বপ্নকে এখন বাস্তবতার অনেক কাছাকাছি নিয়ে এল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
