উচ্চ কোলেস্টেরল আজ বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিরায় মোমজাতীয় এই পদার্থ জমে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকেরা স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ দিলেও, গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে আপেল, পেঁপে, নাশপাতি-কিউই, অ্যাভোকাডো এবং লেবুজাতীয় ফল নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, ধমনী পরিষ্কার থাকে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হয়। এই ফলগুলো প্রাকৃতিকভাবে ‘স্ট্যাটিনের মতো’ কাজ করে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমায় ও ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়ায়।
আপেলকে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকরী ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ পেকটিন অন্ত্রে কোলেস্টেরলের শোষণ বাধা দেয়। পলিফেনল নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ধমনীর দেওয়ালে প্লাক জমা হওয়া রোধ করে। প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ধীরে ধীরে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
পেঁপেতে প্রচুর ফাইবার ও লাইকোপিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। ভিটামিন এ ও সি কোলেস্টেরলের জারণ প্রতিরোধ করে রক্ত জমাট বাঁধা এড়ায়। নিয়মিত পেঁপে খেলে হজম ভালো হয় এবং ধমনীতে চর্বি জমা হওয়া কমে, ফলে হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ কমে।
নাশপাতি ও কিউইও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সমানভাবে কার্যকর। নাশপাতিতে প্রচুর দ্রবণীয় ফাইবার শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বের করে দেয়। কিউই পটাশিয়াম ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস হিসেবে রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখে এবং রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। দুটি ফল একসঙ্গে শিরা পরিষ্কার রেখে সার্বিক হৃদস্বাস্থ্য উন্নত করে।
অ্যাভোকাডোতে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড ‘চর্বি’ নিয়ে ভয় কাটিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন একটি অ্যাভোকাডো খেলে খারাপ কোলেস্টেরল উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে এবং লিপিড প্রোফাইলের ভারসাম্য রক্ষা হয়। স্থূলতা ও কোলেস্টেরল—দুই সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী।
লেবুজাতীয় ফল—কমলা, লেবু ও জাম্বুরা—ভিটামিন সি ও ফাইবারের শক্তিশালী ভাণ্ডার। এসবের হেস্পেরিডিনসহ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমায়, রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং কোলেস্টেরলকে জারণ থেকে রক্ষা করে। তাজা রসের চেয়ে পুরো ফল খাওয়া বেশি উপকারী, কারণ তাতে ফাইবারও পাওয়া যায়।