× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

১০ বছরেই চাঁদে ‘শহর’ গড়ার ঘোষণা ইলন মাস্কের

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৬ এএম । আপডেটঃ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৭ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ মঙ্গল গ্রহের বদলে চাঁদে দ্রুততর মানববসতি স্থাপনের কারণ ও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশ জয়ের নেশা যার রক্তে, সেই ইলন মাস্ক এবার তাঁর লক্ষ্যবিন্দুতে আনলেন আমূল পরিবর্তন। লাল গ্রহ মঙ্গলের চেয়ে পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী চাঁদকেই এখন মানুষের ‘দ্বিতীয় আবাস’ গড়ার প্রথম ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। মাস্কের দাবি, যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে ১০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে চাঁদের বুকে একটি ‘স্ব-বর্ধনশীল শহর’ গড়ে তোলা সম্ভব। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) সিরিজ পোস্টের মাধ্যমে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানান বিশ্বের এই শীর্ষ ধনী।

দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল গ্রহে মানববসতি স্থাপনের কথা বলে আসলেও মাস্ক এখন চাঁদের ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি গাণিতিক ও ভৌগোলিক সুবিধাকে চিহ্নিত করেছেন। মাস্ক ব্যাখ্যা করেন, মঙ্গল গ্রহে অভিযানের সুযোগ আসে প্রতি ২৬ মাসে একবার, যখন গ্রহ দুটির অবস্থান অনুকূলে থাকে। কিন্তু চাঁদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, প্রতি ১০ দিন অন্তর পৃথিবী থেকে চাঁদের অভিমুখে রকেট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। যেখানে মঙ্গলে পৌঁছাতে সময় লাগে ছয় মাস, সেখানে চাঁদে পৌঁছানো যায় মাত্র দুই দিনে। এই দ্রুত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণেই চাঁদে শহর নির্মাণের কাজ মঙ্গলের চেয়ে অনেক দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ইলন মাস্কের এই পরিকল্পনার পেছনে কেবল বসতি স্থাপন নয়, বরং প্রযুক্তির এক বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তারের ছকও রয়েছে। নিউ ইয়র্ক থেকে বিবিসি’র মিশেল ফ্লোরি জানিয়েছেন, স্পেসএক্স সম্প্রতি মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-কে অধিভুক্ত করেছে। এর মূল লক্ষ্য হতে পারে মহাকাশে বিশাল ‘ডেটা সেন্টার’ স্থাপন করা। পৃথিবীতে এআই গণনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও স্থানের সংকট মেটাতে মহাকাশ হতে পারে মোক্ষম বিকল্প। যদিও মহাশূন্যের শূন্যতায় জিপিইউ (GPU) ঠান্ডা রাখা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান, তবুও মাস্কের লক্ষ্য—মহাকাশে ১০ লাখ ডেটা সেন্টার স্থাপন।

১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর চাঁদে আর মানুষের পদধূলি পড়েনি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে ‘চন্দ্র-প্রতিযোগিতা’ শুরু হয়েছে। চলতি দশকের মধ্যেই চাঁদে মানুষ পাঠানোর জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। এমন সময়ে স্পেসএক্সের এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ আধিপত্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে। সাবেক নাসা নভোচারী জেফরি হফম্যানের মতে, স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সফলভাবে চন্দ্রযান তৈরি করতে পারে, তবে একটি স্থায়ী চন্দ্রঘাঁটি স্থাপন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মাস্ক তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সাজাচ্ছেন স্পেসএক্স-কে শেয়ারবাজারে (আইপিও) তালিকাভুক্ত করার উদ্দেশ্যে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহ করা হতে পারে, যা হবে ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ের ঘটনা। বর্তমানে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার।

যদিও মঙ্গলে যাওয়ার স্বপ্ন থেকে মাস্ক পুরোপুরি সরে আসেননি, তবে সভ্যতার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চাঁদকেই এখন ‘দ্রুততর বিকল্প’ ও ‘সোপান’ হিসেবে দেখছেন তিনি। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যেই মানুষবিহীন যান চাঁদে অবতরণ করানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে স্পেসএক্স, যা আগামীর ‘চন্দ্র-শহর’ গড়ার প্রথম সোপান হতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.