× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

চোখের কাজল এবার বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিতে

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৩৬ এএম । আপডেটঃ ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৩৬ এএম

ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেল আরবের ঐতিহ্যবাহী কাজল। ছবি: সংগৃহীত

চোখের কালো কাজলের মোহময়তা কেবল কবিদের কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ নেই, হাজার বছর ধরে এশিয়া থেকে ইউরোপ—বিশ্বের নানা প্রান্তে এটি মিশে আছে মানুষের আত্মপরিচয় ও ঐতিহ্যের সাথে। সম্প্রতি আরবের এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী 'কুহল' বা কাজলকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো। এই স্বীকৃতি কাজলের হাজার বছরের ইতিহাসকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

কাজলের ইতিহাস প্রাচীন মিশর, মেসোপটেমিয়া ও পারস্য সভ্যতার গভীরে প্রোথিত। অঞ্চলভেদে এর নাম ও ধরনে রয়েছে বৈচিত্র্য। আরব বিশ্বে একে বলা হয় ‘কুহল’, দক্ষিণ এশিয়ায় ‘কাজল’ বা ‘সুরমা’, ইরানে ‘সোরমে’, নাইজেরিয়ায় ‘তিরো’ আর আধুনিক বিশ্বে যা ‘আইলাইনার’ বা ‘কোল’ নামে পরিচিত। প্রাচীনকালে অ্যান্টিমনি বা সিসার মতো খনিজ উপাদান দিয়ে তৈরি হলেও, বর্তমানের আধুনিক প্রসাধন হিসেবে এটি পেয়েছে শৈল্পিক রূপ।

আইলাইনার বা কাজলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী চরিত্র সম্ভবত প্রাচীন মিশরের রানী নেফারতিতি। ১৯১২ সালে আবিষ্কৃত তাঁর বিশ্বখ্যাত আবক্ষ মূর্তিতে কাজলের যে নিপুণ ব্যবহার দেখা যায়, তা আজও বিশ্বজুড়ে রূপচর্চার অনুপ্রেরণা। ব্রিটিশ-লেবানিজ লেখক জাহরা হানকির তাঁর ‘আইলাইনার: আ কালচারাল হিস্ট্রি’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, নেফারতিতির সেই ‘এক্সোটিক’ লুক আজও ইউটিউব বা টিকটকে টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে জনপ্রিয়। মিশরে এটি কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক সুরক্ষা ও রোগমুক্তির বিশ্বাস থেকেও ব্যবহার করা হতো।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে জাহরা হানকির দেখেছেন, কাজলের অর্থ ভিন্ন হলেও এর মূল উদ্দেশ্য প্রায় সর্বত্রই এক—সুরক্ষা।

জাপান

গেইশা শিল্পীরা লাল আইলাইনার ব্যবহার করেন সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে।

চাঁদ 

যাযাবর ‘ওয়াদাবি’ গোষ্ঠীর পুরুষরা সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় নিজেদের আকর্ষণীয় করতে কাজল পরেন।

জর্ডান

পেত্রার বেদুইন পুরুষরা সূর্যের তাপ থেকে চোখ রক্ষা ও আভিজাত্য প্রকাশে এটি ব্যবহার করেন।

বাংলাদেশ ও ভারত

শিশুদের ‘নজর লাগা’ থেকে বাঁচাতে আজও কপালে কাজলের টিপ দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাহরা হানকির বলেন, “কাজল কোনো সাধারণ ফ্যাশন পণ্য নয়, এটি একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক চর্চা।” তাঁর মতে, এই স্বীকৃতি কাজল তৈরির কারুশিল্প ও রীতিনীতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে। বিশেষ করে আরব বিশ্ব ও গ্লোবাল সাউথের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে সম্মানিত করবে।

ব্যক্তিগত জীবনেও কাজল এক গভীর সংযোগের নাম। প্রবাসী অনেক নারীর কাছে কাজল পরা মানেই নিজের মা, দাদী এবং ফেলে আসা শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া। এটি কেবল চোখের ওপর একটি রেখা টানা নয়, বরং হাজার বছরের ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতাকে ধারণ করা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.