ভোরের আলো ফুটতেই এক কাপ গরম চা বা কফির কাপে চুমুক না দিলে অনেকেরই দিন শুরু হয় না। ক্লান্তি দূর করতে কিংবা অফিসের কাজের চাপে কফিই অনেকের একমাত্র ভরসা। কিন্তু পছন্দের এই পানীয়টিই কি আপনার ত্বকের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসতর্কভাবে চা বা কফি পানের অভ্যাস বয়সের আগেই ত্বকে বলিরেখা এবং অকাল বার্ধক্যের কারণ হতে পারে।
কফির আসক্তি ও ত্বকের ক্ষতি
সকালে দ্রুত শক্তি জোগাতে কফির জুড়ি নেই। এতে থাকা ক্যাফিন আমাদের সতেজ রাখে ঠিকই, তবে এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বিশেষ করে দিনে কাপের পর কাপ কফি খেলে শরীরে 'কর্টিসল' নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকে; মুখ অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে ওঠা কিংবা ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে চিনি ছাড়া পরিমিত ব্ল্যাক কফি পানে ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কম।
অনেকেই ঘন দুধ ও বেশি চিনি দিয়ে চা ফুটিয়ে খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু খালি পেটে এই পানীয় পানের অভ্যাস অম্বল ও বদহজমের মূল কারণ। দুধে থাকা প্রোটিন এবং চায়ের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট একসঙ্গে মিশে গেলে এর গুণাগুণ নষ্ট হয়। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো চিনি। অতিরিক্ত চিনি ত্বকের অতি প্রয়োজনীয় 'কোলাজেন' প্রোটিন ধ্বংস করে দেয়। ফলে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে যায় এবং চামড়া ঝুলে পড়ে বলিরেখা দেখা দেয়।
দুধ-চিনির চায়ের বদলে যারা গ্রিন টি বেছে নেন, তারা অকাল বার্ধক্য রোধে একধাপ এগিয়ে থাকেন। গ্রিন টি-তে রয়েছে 'ইজিসিজি' (ইজিসিজি) নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এটি ত্বকের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং ভেতর থেকে সতেজ রাখে। এটি কেবল মেদ ঝরাতেই নয়, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতেও মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা ও তারুণ্য বজায় রাখতে পানীয় নির্বাচনে সচেতন হওয়া জরুরি। দুধ-চিনির চা বা কফির বদলে চিনি ছাড়া লিকার চা বা ব্ল্যাক কফি পানের অভ্যাস করুন। তবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো গ্রিন টি। মনে রাখবেন, লিভার ও পেটের স্বাস্থ্যের ওপরই নির্ভর করে আপনার ত্বকের জেল্লা। তাই সকালের চুমুকটি হোক স্বাস্থ্যকর।