তীব্র দাবদাহ ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা মোকাবিলায় দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের তাগিদ বাড়লেও অসমে ও অপরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর কারণে ভেস্তে যেতে পারে পরিবেশ রক্ষার মূল লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র চারা রোপণ করলেই চলবে না, সঠিক সময়, উপযোগী স্থান ও দেশীয় পরিবেশবান্ধব প্রজাতি নির্বাচন না করলে এসব উদ্যোগের সিংহভাগই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।
সাধারণত বর্ষাকালকে বাংলাদেশে চারা রোপণের উৎকৃষ্ট সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম গোলাম সারওয়ার জানান, গ্রীষ্ম বা খরার মৌসুমে গাছে অতিরিক্ত প্রস্বেদনের কারণে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়, যার ফলে পর্যাপ্ত যত্ন ও পানির সরবরাহ না থাকলে শতভাগ চারা মারা যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অন্যদিকে, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরামর্শ অনুযায়ী বর্ষার প্রথম বৃষ্টির পরপরই চারা রোপণ করা ক্ষতিকর, কারণ ওই সময় মাটি থেকে প্রখর গরম গ্যাসীয় পদার্থ নির্গত হয়। চারা রোপণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো দিনের শেষভাগ বা পড়ন্ত বিকেল।
অনিয়ন্ত্রিত ও ভুল স্থানে বৃক্ষরোপণ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, “আমরা ভুল গাছ লাগাচ্ছি ভুল জায়গায়। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা শহরের রাস্তার মাঝখানে বটগাছ কিংবা রেললাইনের পাশে বড় আকারের গাছ লাগানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা অবকাঠামো ও চলাচলের ক্ষতি করে। একই সাথে যে গাছে পাখি বসে না বা বাসা বাঁধে না, তেমন বিদেশি গাছ আমাদের লাগানো উচিত নয়।”
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ইউক্যালিপ্টাস, আকাশমণি, রেইনট্রি ও সেগুনের মতো আক্রমণাত্মক বিদেশি প্রজাতিগুলো মাটি থেকে দ্রুত পুষ্টি ও পানি শুষে নিয়ে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এর পরিবর্তে স্থানীয় পরিবেশের সাথে অভিযোজিত দেশীয় প্রজাতি—যেমন ভাওয়াল বা মধুপুর বন অঞ্চলে শাল গাছ বা নির্দিষ্ট লোকজ প্রজাতি রোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসময়ে ও অনিয়মিতভাবে চারা না লাগিয়ে বিদ্যমান বন ও বৃক্ষসম্পদ নিধন বন্ধ করাই বর্তমান মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পরিবেশবিদরা।