× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বন্যায় ভাসছে ৭ জেলা, ৫১ জনের মৃত্যু ও ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

ন্যাশনাল ট্রিবিউন রিপোর্ট

১২ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩৯ পিএম । আপডেটঃ ১২ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪০ পিএম

বানের পানিতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ে ধস ও পাহাড়ি ঢলে দেশের সাতটি জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আজ রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দেওয়া হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার মোট ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা এখন পুরোপুরি বন্যাকবলিত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে। সেখানে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা ও ১৩ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, "বন্যাকবলিত সাতটি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যেই ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছি এবং স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ত্রাণ ও সাহায্য পৌঁছানো হচ্ছে।"

সরকারি তথ্যমতে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা, যেখানে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ জন মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত এই সাতটি জেলার জন্য ১ কোটি ৭৫ লাখ নগদ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার, যার সিংহভাগ বিতরণ করা হচ্ছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে। এর বাইরে দেশের বাকি ৫৭টি জেলার জন্য জেলাপ্রতি ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চালের সাধারণ বরাদ্দ ধরে মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করা হয়েছে।

বর্তমানে দুর্গত এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে শুকনো ও রান্না করা খাবার, শিশুখাদ্য এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তবে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং উপদ্রুত অঞ্চলের বহু সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.