ভারতের উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থানরত একটি শক্তিশালী মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের চার সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার সকালে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সক্রিয় এই মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে দক্ষিণ ঝাড়খন্ড ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি করেছে।
একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য পৃথক আরেকটি পূর্বাভাস জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়েও পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং উপকূলীয় জেলাগুলোতে জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, "বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় যেকোনো সময় ঝোড়ো হাওয়া আঘাত হানতে পারে। জেলেদের জন্য জারি করা নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত জরুরি; পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের গভীর সাগরে না যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।"