ঈদুল আযহার দিন ঢাকায় দুই দফায় বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফাইল ছবি
আসন্ন ঈদুল আজহার দিনেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগেই অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২৫ মে) আবহাওয়ার আগামী পাঁচ দিনের বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন ভোর থেকে সকাল ১০টা এবং শেষ বিকেল—এই দুই দফায় ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ ছুটির মুখে লাখো মানুষের বাড়ি ফেরা এবং পশুর হাটগুলোর শেষ মুহূর্তের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে এই বৈরী আবহাওয়া জনভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এখন জ্যৈষ্ঠ মাস হলেও, গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে বর্ষা নামার আগেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, ঈদের দিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি হতে পারে।
ঈদের দিন রাজধানী ঢাকার আকাশ কেমন থাকবে, সে বিষয়ে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, "গাণিতিক মডেল অনুযায়ী আমরা যতটুকু দেখতে পাচ্ছি, তাতে ঈদের দিন ভোর বেলা থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সকাল দশটা-এগারোটার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুব কম। এরপর আবার শেষ বিকেল বা সন্ধ্যার দিকেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।"
তিনি আরও জানান, ঈদের দিন ঢাকায় সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টি হতে পারে এবং তা ভারি বর্ষণ না হয়ে মূলত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ঈদের মূল দিনের চেয়েও তার আগের দুই দিন অর্থাৎ মঙ্গল ও বুধবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার দুপুরের এক পসলা ভারি বৃষ্টিতেই ঢাকার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে ইতিমধ্যে কাদা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই বিপাকে ফেলেছে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, "আগামী দুই দিনে ঢাকায় প্রতিদিনই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। অন্তত এক থেকে দুই পসলা বৃষ্টি হবে। তবে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবারের চেয়ে তার পরেরদিন অর্থাৎ হাটের শেষ দিন (বুধবার) ঢাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে অনেক বেশি।"
আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, ঈদের দিন ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেশি থাকবে। তবে খুলনা ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলক কম হতে পারে। বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ঈদের আগের দিন থেকেই দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করবে, যা ঈদের দিনও বজায় থাকবে।
মে মাসকে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির মাস উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া মেঘের কারণে অনেক সময় হুট করে আবহাওয়া বদলে যায়। ফলে বজ্রবৃষ্টির একদম নিখুঁত পূর্বাভাস সাধারণত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে নিশ্চিত করা সম্ভব।
ঈদ উদযাপনের পরপরই আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও কিছুটা অবনতির দিকে যেতে পারে। পূর্বাভাসে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) ঢাকাসহ আটটি বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি ও বজ্র বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের প্রধান প্রধান ঈদ জামাত ও কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের কাজ যেন বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের স্থানীয় প্রশাসনগুলো ইতিমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি ও প্যান্ডেল সুরক্ষার কাজ শুরু করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
