× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ১৫০০ কোটির মহাপরিকল্পনা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:১০ পিএম । আপডেটঃ ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:১১ পিএম

ক্রমবর্ধমান বন উজাড় রোধে দেশের পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

দেশের ক্ষয়িষ্ণু বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এক বিশাল কর্মযজ্ঞে নামছে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে ১৫০০ কোটি টাকার একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে এই সবুজ বিপ্লবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

গত এক দশকে দেশে বনভূমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, ২০১৫ সালে বন আচ্ছাদনের পরিমাণ ছিল ১২.৭৬ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ১২.১১ শতাংশে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলে বন উজাড়ের ফলে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই সংকট উত্তরণেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বন অধিদপ্তর।

বন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তিন ধাপে এই ২৫ কোটি চারা রোপণ করা হবে। স্বল্পমেয়াদে ২০২৬ সালের মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ, ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে ১৩ কোটি ৫০ লাখ এবং অবশিষ্ট ১০ কোটি চারা ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে লাগানো হবে।

প্রকল্পটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো এর আর্থ-সামাজিক প্রভাব। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে, যা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রথাগত বৃক্ষরোপণের বাইরে গিয়ে এবার ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি চারার বৃদ্ধি ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে ‘মাই ট্রি মনিটরিং’ নামক একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া দুর্গম দ্বীপ ও চরাঞ্চলে বনায়নের জন্য ব্যবহার করা হবে বিশেষায়িত ড্রোন, যা বাংলাদেশের বন ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

প্রকল্পের মোট চারার ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ১০ কোটি গাছ লাগানো হবে উপকূলীয় অঞ্চলে, যা মূলত একটি শক্তিশালী ‘সবুজ বেষ্টনী’ হিসেবে কাজ করবে। বাকি ২০ শতাংশ পাহাড়ি ও শালবন এলাকায় এবং অবশিষ্ট অংশ নগর বনায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে রোপণ করা হবে। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ কমাতে শহরগুলোতে ১ কোটি ২৫ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বন জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ গত ১০ বছরে প্রায় ১ লাখ হেক্টর বনভূমি হারিয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাঙামাটি জেলাতেই হারিয়ে গেছে ৮০ হাজার হেক্টর বন। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে বনাঞ্চল ও হাতির করিডর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, নতুন এই প্রকল্প কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক লক্ষ্য পূরণ নয়, বরং হারানো প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে।

বন সংরক্ষক (অর্থ ও প্রশাসন) আর এস এম মুনিরুল ইসলাম বলেন, "আমরা আগামী এপ্রিলের মধ্যেই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর জন্য কাজ করছি। পরিবেশগত প্রয়োজনীয়তা ও ভূ-প্রকৃতি বিবেচনা করেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সাজানো হয়েছে।"

পরিশেষে বলা যায়, এই প্রকল্প কেবল বৃক্ষরোপণের একটি কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার। এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সঠিক তদারকি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.