× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রাজউকের ভয়ঙ্কর পূর্বাভাস

বড় ভূমিকম্পে ঢাকার ৪০ শতাংশ ভবন ধসবে, ২ লাখ মৃত্যুঝুঁকি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:০৬ এএম । আপডেটঃ ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ২২:২৩ পিএম

বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে ঢাকা শহর।

সাম্প্রতিক টানা ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের এক বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটির নিজস্ব সমীক্ষা অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্ট বা ফাটলরেখায় ৬.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানলে ঢাকা শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন অর্থাৎ ৮ লাখেরও বেশি ইমারত ধসে পড়তে পারে। এতে দুই লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন ভয়াবহ তথ্য সামনে এলেও, নগর পরিকল্পনার দায়িত্বে থাকা রাজউকের ব্যর্থতাকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা। গত শুক্রবার ও শনিবার চার দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর গতকাল সোমবার রাজউকের আয়োজিত এক সেমিনারে এই তথ্য তুলে ধরা হয় এবং দ্রুত ভবনগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।

রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে 'ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাসে প্রস্তুতি ও করণীয়' শীর্ষক সেমিনারে রাজউকের 'আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের' (২০১৫-২০২৪) অধীনে পরিচালিত সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

সমীক্ষার নিবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক। তিনি জানান, মধুপুর ফাটলরেখায় ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে:

  • ভবন ধসের আশঙ্কা: মোট ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৯টি ভবন ধসে পড়তে পারে, যা মোট ভবনের ৪০ শতাংশের কিছু বেশি।


  • প্রাণহানির শঙ্কা: দুই লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলার (প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা) আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

ভবনগুলো মেরামত অথবা পুনর্নির্মাণে ৪ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার (৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা) ব্যয় হবে।

উল্লেখ্য, ১৮৮৫ সালে এই মধুপুর ফল্টেই ৭.৫ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৪০ বছর ধরে এই ফাটলরেখায় বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়ায় আশঙ্কা আরও বাড়ছে।

রাজউকের সমীক্ষায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসের যে শঙ্কার কথা বলা হয়েছে, তার মূল দায় রাজউকেরই বলে মনে করছেন নগর-পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।


দায়িত্বে ব্যর্থতা

নগর–পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, "রাজউকের তিনটি কাজ: পরিকল্পনা তৈরি, উন্নয়ন করা এবং উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করা। উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা হতাশাজনকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বড় ভূমিকম্পে ৪০ শতাংশ ভেঙে পড়বে বলা হচ্ছে, এর মূল দায় রাজউকের। ভবনমালিক এবং প্রকৌশলীরাও দায় এড়াতে পারেন না।"

আইন না মানার প্রবণতা

বহু বছর ধরে ভূমিকম্পের এই ঝুঁকির কথা জানা সত্ত্বেও ঢাকায় পুরোনো, ঝুঁকিপূর্ণ, নকশাবহির্ভূত এবং অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে রাজউক তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্মাণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজউকের।

সেমিনারে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা দ্রুত এই সংকট মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দ্রুত সময়ের মধ্যে তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করে রাজধানীর ভবনগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেখানে ভবন ভাঙতেই হবে, সেখানে যেন আর কোনো রকম নমনীয়তা দেখানো না হয়।

শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, রাজউকের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দ্রুত 'টাউন ইম্প্রুভমেন্ট অ্যাক্ট'-এর সংশোধন হচ্ছে।


বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে রেট্রোফিটিং (মজবুতকরণ) করার ওপর জোর দেন। তিনি তুরস্কের ভূমিকম্পে উদ্ধারকাজে যে বিপুল ব্যয় হয়েছিল তা উল্লেখ করে বলেন, পাঁচ কাঠা জমিতে ছয়তলা ভবন রেট্রোফিটিং করতে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা খরচ হবে, যা অ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা নিজেরাই বহন করতে পারেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি আদিল মোহাম্মদ খান নগরায়ণ প্রক্রিয়ায় ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যকে আমলে না নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজউক সিসমিক মাইক্রো-জোনেশন ম্যাপ তৈরি করলেও ব্যবসায়ীদের চাপে সেটির সঙ্গে সমন্বয় না করেই বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) পরিবর্তন করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও এফএআর (ভবনের উচ্চতা) বাড়ানো হয়েছে, যা ক্ষয়ক্ষতিকে আরও ব্যাপক করবে।

তবে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, ড্যাপ এখনো চূড়ান্ত নয় এবং প্রজ্ঞাপন হওয়ার পরে কারিগরি কমিটি সুপারিশ দিলে সে অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে।

সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীতে কয়েক দফায় ভূমিকম্পের পর ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় গত শুক্রবার পর্যন্ত ৩০০টি ছোট-বড় ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নকশা অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত রাজউকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণে প্রথমে দায়ী ভবনমালিক, এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার হোসেন নবীন

যোগাযোগ: +880244809006

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2025 National Tribune All Rights Reserved.