× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পানিতে ডুবে বছরে ১৮ হাজার মৃত্যু

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

২৬ জুলাই ২০২৬, ২৩:৩২ পিএম । আপডেটঃ ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ এএম

'বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস'। ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৫ জুলাই শনিবার পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’। প্রতিবছর বাংলাদেশে পানির আবর্তে প্রাণ হারাচ্ছে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ। যার বড় অংশই শিশু।জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাময়যোগ্য এই মর্মান্তিক অকালমৃত্যু ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে দিবসটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে ডুবে মৃত্যুর ধারা বদলাই’।

‘বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে ২০২৩’-এর দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর গড়ে ১৮ হাজার ৬৬৫ জন মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছেন। এর মধ্যে মর্মান্তিক বিষয় হলো, মোট মৃতের ১৪ হাজার ২৬৯ জনই শিশু, যাদের বয়স প্রধানত এক থেকে চার বছরের মধ্যে। তথ্যে আরও দেখা গেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটছে শিশুটির নিজ বাসাবাড়ির অতি কাছাকাছি থাকা পুকুর, নালা, ডোবা কিংবা অরক্ষিত জলাশয়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৩ লাখেরও বেশি মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান, যার প্রায় ৯০ শতাংশ ঘটনাই ঘটে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বৈশ্বিক এই সংকট নিরসনে জাতিসংঘ ও ডব্লিউএইচও ২০২৫ সালে একটি বিশেষ কৌশলপত্র প্রণয়ন করে, যার মূল উদ্দেশ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার অন্তত ৩৫ শতাংশ কমিয়ে আনা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সাল থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তে ২৫ জুলাইকে বিশ্বজুড়ে দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।


"পানিতে ডুবে অকালমৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধযোগ্য। কেবল পারিবারিক সচেতনতা, সাঁতার শেখানো, অভিভাবকের নজরদারি এবং জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির মাধ্যমেই আমরা হাজারো শিশুর প্রাণ রক্ষা করতে পারি।"
— জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিশু সুরক্ষা গবেষক


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটু সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ বাড়ালেই হাজার হাজার সম্ভাবনাময় শিশুর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। স্থানীয় কমিউনিটি ভিত্তিক শিশুযত্ন কেন্দ্র তৈরি করা, ছোট বয়স থেকেই শিশুদের জীবনরক্ষাকারী সাঁতার শেখানো এবং জলাশয় চিহ্নিত করে নিরাপদ বেষ্টনী গড়ে তোলার মাধ্যমে এই অকালমৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসমূহ সমন্বিতভাবে প্রান্তিক অঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের সাঁতার শেখানোর বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩৫ সালের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পরিবার থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত সম্মিলিত প্রচেষ্টা বজায় রাখাই এখন সময়ের বড় দাবি।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.