আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম। বুধবার (১৫ জুলাই) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা সংস্থা ‘বিমসটেক’-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা প্রধানদের আনুষ্ঠানিক সম্মেলনের সাইডলাইনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
নয়াদিল্লিতে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মূল সভাকে সামনে রেখে এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনাটি সম্পন্ন হলো। এবারের আয়োজক দেশ ভারতের আমন্ত্রণে বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই শীর্ষ সম্মেলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যেখানে ঢাকার পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।
রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি কিংবা দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্তের বিষয়বস্তু উভয় পক্ষের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে। চলমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরই উভয় দেশের প্রতিনিধিরা সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।
বিমসটেক প্ল্যাটফর্মের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত কৌশল অত্যন্ত জরুরি। ভারতের আতিথেয়তায় এবং বাংলাদেশের সভাপতিত্বে চলমান এই আলোচনা প্রক্রিয়া আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।"
পঞ্চম বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের এই সম্মেলনটির সফল সমাপ্তি জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবাদ দমন, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধের মতো জটিল চ্যালেঞ্জগুলো যৌথভাবে মোকাবিলায় নতুন কূটনৈতিক দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন