সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করার আইনি লঙ্ঘন বন্ধ, ঠিকাদারি প্রথা বিলুপ্ত করে সরাসরি চুক্তি এবং পর্যায়ক্রমে আত্তীকরণের মাধ্যমে বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। নবপ্রণীত সরকারি আউটসোর্সিং নীতিমালা-২০২৫ লঙ্ঘন করে দেশজুড়ে অব্যাহত অনিয়ম ও অবৈধ ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের হস্তক্ষেপ কামনা করে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, "ঠিকাদারি চক্রের মাধ্যমে সাধারণ কর্মচারীদের শ্রমের অধিকার দিনের পর দিন খর্ব করা হচ্ছে। টেন্ডার পরিবর্তনের অজুহাতে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অভিজ্ঞ কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।"
সংগঠনটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রধান চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—মধ্যস্বত্বভোগী ঠিকাদারি প্রথার সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটিয়ে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মচারীদের সরাসরি চুক্তি সম্পাদন, টেন্ডার জটিলতায় চাকরিচ্যুতদের অবিলম্বে বকেয়া বেতনসহ পুনর্বহাল, সকল অস্থায়ী কর্মচারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ বেতন কাঠামো ও রেশন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলমান অনিয়মতান্ত্রিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।
সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক মোঃ জান্নাতুন নাঈম বলেন, "আমরা রাষ্ট্রের আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর কোনো ক্ষতি না করে, বিদ্যমান অনিয়মগুলো দূর করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করেছি। এই বিষয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ মহলের সাথে জরুরি সাক্ষাতের আহ্বান জানাচ্ছি।"
আউটসোর্সিং কর্মচারীদের এই চলমান সংকট নিরসন না হলে কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। আইনি সুরক্ষা ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা না পেলে পর্যায়ক্রমে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সংগঠনটি।