আলী আকবর খান। সংগৃহীত ছবি
অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি না পাওয়ায় ক্ষোভে ও অভিমানে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর এবং অবসর-পূর্ব ছুটির (পিআরএল) আবেদন করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলী আকবর খান। গত ১ জুন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় সরকারের এই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের আবেদন পুলিশ প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও সেই তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীরের সই করা এক চিঠিতে আলী আকবর খানের পদত্যাগ ও ২ জুলাই ২০২৬ থেকে এক বছরের পিআরএল মঞ্জুরের আবেদনটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আবেদনে আলী আকবর খান উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী তিনি স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে চান। পদোন্নতি না পাওয়ার ঘটনাটিকে ‘জানা-অজানা অযোগ্যতার কারণে আবারও বৈষম্যের শিকার’ হওয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
আলী আকবর খানের সই করা আবেদনপত্র থেকে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে তিনি প্রথম ওএসডি হন এবং ২০২২ সালে চাকরিচ্যুত হন। দীর্ঘ ১৬ বছর চাকরির বাইরে থাকার পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছিলেন।
স্বেচ্ছায় অবসরের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডিআইজি আলী আকবর খান বলেন, "এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এই মুহূর্তে এই বিষয় নিয়ে আমি গণমাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে চাইছি না।"
এদিকে, পুলিশ সদরদপ্তর বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই পদত্যাগের বিষয়ে তিনি এখনও বিস্তারিত কিছু জানেন না।
আলী আকবর খান তাঁর আবেদনে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ছাত্র-জনতার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছেন যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কারণেই তিনি চাকরিতে ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে ১৯৯৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান প্রশাসনের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে তাঁর নাম না থাকায় তিনি হতাশ। তিনি মনে করেন, কোনো অদৃশ্য কারণে তিনি পুনরায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন এবং সরকারের ‘বোঝা’ না হয়ে সসম্মানে বিদায় নেওয়াই শ্রেয়।
এদিকে, আলী আকবর খানের এই আকস্মিক পদত্যাগের পর তাঁর ক্যারিয়ারের পুরোনো কিছু বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে ২০০৬ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে দায়িত্ব পালনকালে একজন জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার একটি ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
পুলিশের উচ্চপর্যায়ের এই আকস্মিক রদবদল ও পদত্যাগের ঘটনাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে দেখছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনীর ভেতরের অভ্যন্তরীণ পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা ও বঞ্চনার মূলে থাকা মনস্তাত্ত্বিক সংকট দূর করা না গেলে প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড বা নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
