× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বেনাপোল সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ প্রতিহত করল বিজিবি, জিরো লাইনে আটকে ১০ জন

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০২ জুন ২০২৬, ০১:১৭ এএম । আপডেটঃ ০২ জুন ২০২৬, ০২:১২ এএম

বিজিবির কড়া নজরদারির কারণে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর বোম্বেতলা এলাকার শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) আটকে পড়া ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা আবারও প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত রবিবার (৩১ মে) দিবাগত গভীর রাতে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর গ্রামের বোম্বেতলা সংলগ্ন কাঁটাতারের গেট খুলে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবির কঠোর বাধায় অনুপ্রবেশের এই চেষ্টা ব্যর্থ হলে বর্তমানে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘জিরো লাইনে’ (নো-ম্যানস ল্যান্ড) চরম মানবিক সংকটের মুখে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হলেও সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা পরিবারগুলোর ভাগ্য নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, "বিএসএফের মাধ্যমে সীমান্তে নিয়ে আসা ১০ জন এখনো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করছে। আমরা বিষয়টি সমাধানে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের জন্য বিএসএফকে চিঠি দিয়েছি, তবে তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো জবাব আসেনি।"

মে মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে কথিত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ পরিচয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত ২৪ মে সাতক্ষীরা সীমান্তে শতাধিক এবং ২৭ মে কুশখালি সীমান্ত দিয়ে ২৩ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবি রুখে দেয়। এ ছাড়া মৌলভীবাজার, চুয়াডাঙ্গা ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টেও অনুরূপ ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদর দফতর ইতিমধ্যে সীমান্তজুড়ে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ঈদ উপলক্ষে সীমান্তরক্ষীদের ছুটিও সীমিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি সদর দফতরের মুখপাত্র কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, ‘‘অবৈধভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কাউকে বিজিবি গ্রহণ করবে না। আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে নির্ধারিত চেকপোস্টের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পরিচয় যাচাই ছাড়া কোনো পুশ-ইন মেনে নেওয়া হবে না।’’

মানবাধিকারকর্মী ও সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং দ্বিপাক্ষিক নাগরিকত্ব নিশ্চিতকরণ ছাড়া এভাবে বলপূর্বক পুশ-ইনের চেষ্টা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন। এই প্রবণতা সীমান্তে কেবল মানবিক সংকটই তৈরি করছে না, বরং ঢাকা-নয়াদিল্লির বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কেও দীর্ঘমেয়াদি অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.