কোরবানির পশু। ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে রাজধানীতে কোরবানির পশু কাটা ও চামড়া ছাড়ানোর জন্য কসাইদের মজুরি বা ‘রেট’ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কোরবানিদাতারা। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্য তালিকা নির্ধারিত না থাকায় এলাকা এবং কসাইভেদে পশুর মূল্যের প্রতি হাজারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। ফলে একটি দেড় লাখ টাকার গরুর মাংস কাটার পেছনেই কোরবানিদাতাদের অতিরিক্ত ২২ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
কোরবানিদাতাদের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কসাইরা সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছেমতো এই দর নির্ধারণ করেছেন। ভোগান্তির শিকার বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, "কোরবানির সময় কসাই ঠিক করাই এক ধরনের ঝামেলার কাজ। গরু কাটা ও চামড়া ছাড়ানোর কোনো নির্ধারিত মূল্য নেই, যে যার মতো দর হাঁকান।" তিনি আরও জানান, ঢাকার স্থায়ী কসাইদের মাত্রাতিরিক্ত দাবির মুখে তিনি এবার চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা মৌসুমি কসাইদের সঙ্গে প্রতি হাজারে ১৫০ টাকা দরে চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা ও ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকাগুলোতে কসাইদের রেট প্রতি হাজারে ২০০ টাকা। অপরদিকে বাড্ডা, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় এই দর ১৫০ টাকা। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে যৌথ কোরবানি বা বিভিন্ন সোসাইটির ক্ষেত্রে; যেখানে প্রতি হাজার হিসেবে নয়, বরং গরুপ্রতি সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত চুক্তি হচ্ছে।
এদিকে কসাইদের দাবি, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই মৌসুমে কাজের চাপ এবং খরচ—উভয়ই বেশি থাকে। বনশ্রী এলাকার পেশাদার কসাই মোস্তফা তাঁর রেট যৌক্তিক দাবি করে বলেন, "কোরবানির সময় আমাদের নিয়মিত ব্যবসা থাকে না। এক মাসের বেশি সময় বসে থাকতে হয়, এই সময় আয় না করলে খাব কী?" তবে তিনিও স্বীকার করেন যে একটি নির্দিষ্ট সরকারি রেট থাকলে এই জটিলতা এড়ানো সম্ভব। আরেক কসাই ইসাহাক বলেন, "সরকার দর বেঁধে দিলে ভালো হবে, তাহলে সবাই এক দরেই কাজ পাবে এবং কোনো বৈষম্য থাকবে না।"
ভোগান্তি লাঘবে রাজধানীতে পশুর হাটের হাসিলের মতো কসাইদের মজুরির ক্ষেত্রেও সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি যৌক্তিক ও আইনি রেট নির্ধারণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী। তা না হলে প্রতিবছরই উৎসবের প্রাক্কালে সাধারণ মানুষকে এমন অযৌক্তিক আর্থিক জিম্মিদশার মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
