× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রাজধানীতে প্রবাসী খুন করে লাশ ৮ টুকরো, গ্রেপ্তার মা-মেয়ে

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৯ মে ২০২৬, ২৩:৫৪ পিএম । আপডেটঃ ১৯ মে ২০২৬, ২৩:৫৫ পিএম

রাজধানীতে প্রবাসী মোকাররম হত্যার ঘটনায় র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার প্রধান সহযোগী হেলেনা বেগম ও তার মেয়ে। ছবি: র‍্যাবের সৌজন্যে

রাজধানীর মান্ডায় সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে (৩৮) পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ ও বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা এবং লাশ আট টুকরো করে গুম করার চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পরকীয়া সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন এবং ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীর সহযোগী হেলেনা বেগম ও তার কিশোরী মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তবে প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার এখনো পলাতক।

র‍্যাব-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ১৭ মে রাজধানীর পূর্ব মান্ডার একটি ময়লার স্তূপ থেকে নিহতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত মোকাররমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হেলেনা বেগম জানান, সৌদি আরবে থাকাকালীন সুমনের নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে মোকাররমের বন্ধুত্ব হয়। সেই সুবাদে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনার (৩১) সঙ্গে মোকাররমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কে মোকাররম প্রবাসে থাকা অবস্থায় তাসলিমাকে বিভিন্ন সময়ে ৫ লাখেরও বেশি টাকা পাঠান।

গত ১৩ মে মোকাররম নিজ পরিবারকে না জানিয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে তার বান্ধবী হেলেনার মান্ডার ভাড়া বাসায় যান। রাতে তাসলিমা ও মোকাররমের মধ্যে বিয়ে এবং পূর্বে দেওয়া অর্থ ফেরত নিয়ে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। তাসলিমা বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে মোকাররম ক্ষুব্ধ হয়ে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

হুমকির মুখে তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। হেলেনার দাবি, বাক্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে মোকাররম তার নাবালিকা মেয়ের ওপরও অসদাচরণের চেষ্টা করেছিলেন, যা এই হত্যাকাণ্ডে তাকে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ মে সকালে নাস্তার সময় মোকাররমকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে এবং পরে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যার পর লাশ বাথরুমে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আটটি খণ্ড করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাখা হয়।

অভিযুক্তরা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় আলামত লোপাটের কাজ সম্পন্ন করে। ১৪ মে রাতে সুযোগ বুঝে মোকাররমের শরীরের সাতটি খণ্ড বাসার নিচে ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয় এবং মাথাটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আরেকটি নির্জন স্থানে ফেলে আসা হয়।

হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা আড়াল করতে পরদিন ১৫ মে অভিযুক্তরা সবাই মিলে বাইরে ঘুরতে যান এবং রেস্তোরাঁয় বিরিয়ানি খেয়ে আসেন। ওই রাতেই তারা বাসার ছাদে একটি পার্টির আয়োজন করেন এবং সেখানে প্রতিবেশীদেরও অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরবর্তী সময়ে ১৬ মে প্রধান অভিযুক্ত তাসলিমা তার ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আত্মগোপন করেন।


“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলেনা বেগম হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন। এই নৃশংস ও বর্বরোচিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা তাসলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
— মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, র‍্যাব-৩।


উদ্ধারকৃত দেহাবশেষ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.