মহাসড়ক। ফাইল ছবি
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাকে সংঘবদ্ধ চক্রের ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশু ব্যবসায়ী, চালক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের সশস্ত্র তাণ্ডবে অস্ত্রের মুখে চালকদের জিম্মি করে ঢাকামুখী গরুবাহী ট্রাক লুটের এই নতুন প্রবণতা ঈদযাত্রার সার্বিক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের শঙ্কার মুখে ফেলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহাসড়কগুলোতে পশুবাহী ট্রাকের জন্য বিশেষ ‘এসকর্ট সার্ভিস’ (দলবদ্ধ পুলিশি পাহারা) চালু, ড্রোন নজরদারি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। ইতোমধ্যে সারা দেশে সম্ভাব্য যানজট ও ঝুঁকিপূর্ণ ৯৪টি স্পট চিহ্নিত করে নিরাপত্তা বলয় তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
গত ৭ মে ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ব্যারিকেড বসিয়ে একটি ট্রাকে হামলা চালায়। তারা চালক আকরাম হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে ১০টি গরু লুট করে এবং চালক ও হেলপারকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পালিয়ে যায়।
এর আগে ১৭ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের সলঙ্গায় উত্তরবঙ্গ থেকে কেনা ১৪টি ষাঁড়সহ একটি ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে আশুলিয়া থেকে এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানতে পারে, লুণ্ঠিত গরুগুলো জবাই করে চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপারশপে মাংস সরবরাহ করতো। এছাড়া গত ২৪ এপ্রিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে ছিনতাইকারীরা নৃশংসভাবে হত্যা করার পর মহাসড়কের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এই পরিস্থিতিতে পশুবাহী ও চামড়াবাহী ট্রাকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮০টি থানা ও ফাঁড়িকে যুক্ত করে বিশেষ টহলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, "ঈদযাত্রায় মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাকগুলোকে দলবদ্ধভাবে ‘এসকর্ট’ দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অপরাধ দমনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও চন্দ্রা সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং হাইওয়ের প্রতিটি অঞ্চলে ড্রোন নজরদারি চালানো হবে।"
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ইতোমধ্যে দেশের ৯৪টি গুরুত্বপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কেই রয়েছে ২৫টি করে স্পট। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অবৈধ থ্রি-হুইলার ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে বিআরটিএ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। এছাড়া, নজরদারি আরও নিখুঁত করতে বিভিন্ন ইউনিট থেকে অতিরিক্ত ১ হাজার নতুন জনবল হাইওয়ে পুলিশে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
